× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রান্তিক মানুষের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল জরুরি

মজুমদার বাবু

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৩ ১২:৪৬ পিএম

ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বুরো বাংলাদেশের পরিচালক এম মোশাররফ হোসেন। প্রবা ফটো

ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বুরো বাংলাদেশের পরিচালক এম মোশাররফ হোসেন। প্রবা ফটো

এম মোশাররফ হোসেন। ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বুরো বাংলাদেশের পরিচালক, অর্থ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মনে করেন, আসছে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা জরুরি। এতে আরও কম সুদে ঋণ পাবেন প্রান্তিক কৃষক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মজুমদার বাবু।

আসছে বাজেটে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কী করা যেতে পারে?

মোশাররফ হোসেন : করোনার সময় গ্রামের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাইক্রোক্রেডিট, এসএমই ও কৃষি শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য একটা সহজ শর্তের অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল তৈরি করা উচিত। যেটা বাংলাদেশ ব্যাংক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) যৌথ ব্যবস্থাপনায় চলবে। এ টাকা বিতরণ হবে এমএফআইয়ের মাধ্যমে। তহবিল থেকে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) সহজ শর্তে টাকা নেবে এবং গ্রাহকদেরও সহজ শর্তে ঋণ দেবে। আগামী বাজেটেই এ তহবিল সরকার নিজস্ব কিংবা বিদেশি অর্থায়নেও করতে পারে। যেহেতু পুনঃঅর্থায়ন তহবিল, তাই একবার দিলে এটা পরবর্তীতে আর এখানে অর্থ দিতে হবে না, দিতে পারবে না।

এর আউটকাম হবে, ক্ষুদ্রঋণ ও এসএমই গ্রাহকরা সহজ শর্তে ঋণ পাবেন। করোনায় যে ক্ষতি তাদের হয়েছে, সেটা কাটিয়ে উঠতে এ তহবিল সহায়তা করবে। কাটিয়ে ওঠার পরও এ তহবিল থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণে অর্থায়ন পাবেন। ব্যাংকের ওপরে চাপ কমবে। কৃষি খাতে এনজিও লিংকেজে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন ২০ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে কৃষিঋণের যে টাকা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণের জন্য পায়, তার সুদ ৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে অর্থায়ন করে, সেখানে এমআরএর গাইডলাইন অনুযায়ী ২৪ শতাংশ সুদ দাঁড়ায়। যদি ১০ হাজার কোটি টাকা সরকার সাবসিডি রেটে দেয়, তাহলে আমরাও দরিদ্র মানুষদের সাবসিডি রেটে দিতে পারব। সর্বোপরি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ তহবিল গঠন করা হলে প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি এমন একটা তহবিল গঠিত হবে, যেখানে দ্বিতীয়বার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে না।

এ তহবিল এনজিও লিংকেজে কেন বিতরণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

মোশাররফ হোসেন : প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষি খাতে ঋণ দেয় ৩০ হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে এমআরএ-এর হিসাবে বাংলাদেশে কৃষি খাতে এমএফআইগুলো ঋণ দেয় ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংক খাতের তুলনায় আমরা চার গুণের বেশি ঋণ দেই। এটাকে আরও জোরদার করতে ১০ হাজার কোটি টাকা অনেক বড় অবদান রাখবে। তারা যদি ২ শতাংশ সুদে দেয়, তাহলে আমাদের অনেক কম সুদে কৃষকদের দিতে হবে। আরেকটা বিষয়, ব্যাংক যদি কোনো এমএফআইকে কৃষিঋণ বিতরণের জন্য দেয়, তাহলে এর ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত তারা এফডিআর রেখে দেয়। তাহলে প্রকৃত ঋণের অঙ্ক কমে যায়। এই তহবিলে তো ঋণের অঙ্ক কমবে না।

কিন্তু এতে সুদহার বেশি হয়ে যাবে না?

মোশাররফ হোসেন : সুদহার প্রান্তিক গ্রাহকদের কাছে কোনো ইস্যু না। যদি প্রশ্ন করি, ৯ শতাংশ সুদে রিকভারি রেট কত শতাংশ। উত্তর হবে ৭০-৭৫, এর বেশি না। কিন্তু আমাদের ৯৯ শতাংশ। এর কারণ কী? মূলে গেলে দেখবেন, আমরা যদি কোনো একজন গ্রাহককে গরু কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেই, তাহলে সেটা হাটবারে বিতরণ করি। শুধু তাই না, আমরা হাটে তার সঙ্গে আমাদের ঋণ কর্মকর্তাকে পাঠাই, যেন ঋণের টাকায় গরু কেনা নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে তাকে গরু অসুস্থ হলে পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়। তার মানে ঋণ ব্যবহার আমরা শতভাগ নিশ্চিত করি। যেটা ব্যাংক সিস্টেমে সম্ভব হয় না। ঋণ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রেট অব ইন্টারেস্ট ব্যাপার না।

শুধু তাই নয়, গরুটা মারা যেতে পারে, ঋণগ্রহীতা মারা যেতে পারেন, গ্যারান্টার মারা যেতে পারেন। যাই ঘটুক না কেন, আমরা তৎক্ষণাৎ ওই ঋণ মওকূফ করে দেই। গ্রহীতা মারা গেলে আমরা ওই পরিবারকে আরও ৫ হাজার টাকা সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছে দেই দাফন-কাফনের জন্য। এটা করা হয়, ৫০ হাজার টাকা নিলে গ্রাহকের কাছ থেকে যে ৫০ টাকা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম নেওয়া হয় তা থেকে। বলা হয়, এনজিওর মাধ্যমে শুধু ঋণ যায় না, জীবনযাপনের সাপোর্টও যায়। যে প্যাকেজ অব সার্ভিস যায়, এতে চার্জ বেশি পড়ে। আমরা কখনও বলি না ওয়ার্ক ফর দ্য পুওর, আমরা বলি ওয়ার্ক উইথ দ্য পুওর। দুটোর মধ্যে পার্থক্য হলো স্কুলের শিক্ষক কোচিং শিক্ষকের পরিচর্যার পার্থক্য।

আরেকটা কথা হলো, এমএফআইতে সারপ্লাস বা লভ্যাংশ হলে তা কিন্তু কেউ নেয় না্, সেটা সেক্টরের মধ্যেই থাকে। এমআরএর আইনে তার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু ব্যাংকে সারপ্লাস বা মুনাফা হলে সেটা মালিকরা লভ্যাংশ আকারে নিয়ে নেন।

বাজেটে এমএফএসের জন্য আর কী কী করা যেতে পারে? 

মোশাররফ হোসেন : অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান আমাদের মাইক্রোক্রেডিটে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু শর্তের বেড়াজালে তা খুবই জটিল, তাই আমরা নিতে পারি না। এ বিষয়টিকে আরও সহজ করে বাজেটে একটা সহজ নীতিমালা প্রণয়নের দিকনির্দেশনা থাকতে পারে। এতে সরকারের ডলার সাপোর্টও হবে। সহজীকরণ কর হলে আমরা ২০ মিলিয়ন ডলার নিতে পারতাম। সরকারের রিজার্ভও বাড়ত।

এ ছাড়া করোনাকালে আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, আমরা ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু করি। এমএফএসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ করে দেই। এখনও আমাদের সাড়ে ৫ লাখ গ্রাহক এমএফএসের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেয়। কিন্তু দেখা গেছে, সার্ভিস প্রোভাইডাররা চার্জ অনেক বেশি নেয়। এখানে সরকার এমএফআই গ্রাহকদের চার্জ আরও কমাতে হবে। 

আয়কর বাড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?

মোশাররফ হোসেন : আয়করদাতা বাড়াতে স্কুলের বাচ্চা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবার জন্যই ট্যাক্স ফাইল খুলতে পারে। সেখানে বছরে প্রয়োজনে তার মতো করে ১০-২০ টাকা বার্ষিক আয়কর দেবে। এতে শিশুদের মধ্যে কর দেওয়ার একটা প্রবণতা তৈরি হবে। কিন্তু একটা শর্ত থাকবে, যত দিন সে ছাত্র থাকবে, তার ট্যাক্স ফাইল কোনো দিন অডিট হবে না। হয়তো ২০ বছরে সে ২ হাজার টাকাই কর দেবে। বিপরীতে সে জানবে নাগরিক হিসেবে ট্যাক্স ফাইল থাকা আমারও দায়িত্ব।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা