হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:০৪ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:২২ পিএম
খলিফাপট্টিতে ঢুকলে কানে আসে সেলাই মেশিনের ঠক ঠক শব্দ। প্রবা ফটো
সেলাই মেশিন ঘুরছে দিন-রাত। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ করছেন সেলাইয়ের কাজ। বাহারি রঙের কাপড়ে বসছে জরি, চুমকি। তৈরি হচ্ছে একেকটি নতুন পোশাক। ঈদ সামনে রেখে নতুন পোশাক তৈরির এমন ধুম লেগেছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খলিফাপট্টিতে। সেখানে এখন যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগর ও দোকানিদের। খলিফাপট্টিতে ঢুকলেই কানে আসে সেলাই মেশিনের ঠক ঠক শব্দ।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার অদূরে খলিফাপট্টির অবস্থান। ছোট ও মাঝারি চার শতাধিক কারখানায় ঈদের পোশাক তৈরির কাজ করছেন প্রায় চার হাজার শ্রমিক। গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি কক্ষের এসব কারখানায় শ্রমিকদের কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন। অনেকে আবার পোশাকে জরি, চুমকি বা লেস বসানোর কাজ করছেন।
রহমান ফ্যাশনের মালিক আবদুর রহমানের মালিকানাধীন কারখানায় পোশাক সেলাইয়ের কাজ করছেন রুবেল। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, কাজের চাপ এখন একটু বেশি। রমজানের মাঝামাঝি ক্রেতা অনেক বাড়ে, তখন আমাদেরকেও দিন-রাত কাজ করতে হয়। সকাল ১০টা থেকে সেহরি পর্যন্ত টানা কাজ চলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পঞ্চাশের দশকে আইয়ুব আলী সওদাগর নামে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের এক দর্জি নগরীর ঘাটফরদাবাদ এলাকার ওই জায়গায় ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকে। একের পর এক দর্জি দোকান গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে জায়গাটি খলিফাপট্টি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এখান থেকে পোশাক নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিক্রি করেন দোকানদাররা।
কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন শপিং মল, কাপড়ের দোকানে শোভা পায় এখানকার পোশাক। ফলে সারা বছরই এখানে ব্যস্ততা থাকে। তবে রমজানের ঈদ ঘিরে এই ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কারখানায় তৈরি হওয়া পোশাক শোরুমে সাজিয়ে রাখেন ব্যবসায়ীরা। সেখান থেকে নিজেদের পছন্দমতো কিনে নেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দোকানিরা।
এবার খলিফাপট্টিতে পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩২শ টাকা দামের পোশাক। রয়েছে বাচ্চাদের স্যুট, শার্ট, প্যান্ট, মেয়েদের ফ্রক, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, স্কার্ট প্রভৃতি। এ ছাড়া হাল ফ্যাশনের সারারা, গারারা, ইন্ডিয়ান ডিজাইনের নেহার কাটসহ নানা ধরনের পোশাক এখানে পাওয়া যায়। যেকোনো ডিজাইন একবার দেখলেই সেটি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন এখানকার কারিগররা।
খলিফাপট্টির সমবায় মার্কেটের মেসার্স নিপু ফ্যাশনের মালিক মো. নূর আলম। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, এখানে সব ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যায়। বড় বড় শপিং মলগুলোতে আধুনিক ডিজাইনের যেসব জামাকাপড় পাওয়া যায়, এখানকার কারিগররা সেগুলো অনায়াসে তৈরি করতে পারেন। একটি নকশা দেখার পর সেটি হুবহু তৈরি করতে পারেন। ফলে এখানে মেয়েদের আধুনিক সব ড্রেসও পাওয়া যায়।’
নুর ফ্যাশনের মালিক মোহাম্মদ সেলিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘করোনার দুই বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা একটু ভালো। তবে ৮ থেকে ১০ বছর আগে যে পরিমাণ বেচাকেনা হতো, এখন সেটি নেই। অবশ্য কয়েকদিন ধরে বিক্রি কিছুটা বাড়ছে। এখন প্রতিদিন আমার দোকানে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে।’
খলিফাপট্টি বণিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মো. জামাল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তাই এবার বেশি দামের পোশাক কম দামে বিক্রি চলছে। দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের মেয়েদের থ্রি পিস, লেহেঙ্গা, গারারা, সারারা এগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে।’