এম আর মাসফি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনিকল আধুনিকায়নে নেওয়া প্রকল্প দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ১০ বছরেও শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। নতুন করে আরও দুই বছর সময় চায় সংস্থাটি। অর্থাৎ দুই বছরের কাজ গিয়ে ঠেকছে ১২ বছরে। এ ছাড়া কাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্পের ব্যয় ৪৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটিতে।
আজ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সংশোধিত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বাস্তবায়নাধীন ‘বিএমআর অব কেরু অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেড’ শীর্ষক প্রকল্পটি ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১২ সালে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জুলাই মাসে বাস্তবায়নের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম দুই দফায় এক বছর করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে এক লাফে চার বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। তারপরও কাজ শেষ করতে পারেনি সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে দুই দফায় আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়।
এই সময়েও কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় নতুন করে আরও দুই বছর বৃদ্ধি করে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পটির খরচ বাড়িয়ে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের খরচ বেড়েছে ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা দ্বিগুণেরও বেশি। মোট খরচের মধ্যে সরকার দেবে ৯২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০ কোটি টাকা।
প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রস্তাবনায় বলা হয়, নতুন মিল হাউস স্থাপন, বয়লার, পাওয়ার টারবাইন ও বয়লার হাউস নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ সম্পাদন ও ট্রায়াল রানের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। মে ২০২৩ তারিখের মধ্যে ট্রায়াল রান ব্যতীত সব কাজ সম্পন্ন হবে। ভৌত কাজ শেষে ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমে ট্রায়াল রান সম্ভব হবে। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ৮৩ বছরের পুরোনো কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডের সুগার ইউনিট প্রতিস্থাপন। চিনিকলটির বর্তমান আখ মাড়াই এবং চিনি উৎপাদনক্ষমতা সংরক্ষণ এবং মাড়াই ও প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণের মাধ্যমে প্রসেস লস ন্যূনতম পর্যায়ে হ্রাসকরণ।
প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ৪০ মেট্রিক টন স্টিম উৎপাদনক্ষমতার ১টি বয়লার স্থাপন। দুই মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি পাওয়ার টারবাইন স্থাপন। বয়লিং হাউসের ৪টি মাল্টিপল ইফেক্ট ইভাপরেটর, ১টি রোটারি ভ্যাকুয়াম ফিল্টার, ৩টি প্যান, ১টি ক্লারিফায়ার, সুগার ড্রায়ার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ স্থাপন এবং ১টি পূর্ণাঙ্গ মিল হাউস স্থাপন।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটির জন্য ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৩ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা। আজ অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভার কার্যতালিকায় প্রকল্পটি রয়েছে।
প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিনিকলটির আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আখ মাড়াই ও প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণের মাধ্যমে চিনিকলের প্রসেস লস ন্যূনতম পর্যায়ে হ্রাস করা সম্ভব হবে। ফলে জনসাধারণের কর্মসংস্থানের সুযোগসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। আরডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের কাজের ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সব বৈদেশিক মালামাল ছাড়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অধিকাংশ মালামাল প্রকল্প সাইটে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের মে মাসের মধ্যে ট্রায়াল রান ব্যতীত প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যেহেতু প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ৭০ শতাংশ এবং ইতোমধ্যে ৬৬ কোটি ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে (যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ) এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ট্রায়াল রানের প্রয়োজনে মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে সেহেতু বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) শর্তগুলো প্রতিপালন সাপেক্ষে ‘বিএমআর অব কেরু অ্যান্ড কোং (বিডি) লিং (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের মেয়াদ পঞ্চমবার ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ২ বছর অর্থাৎ জুন ২০২৪ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব একনেকের সদয় বিবেচনা ও সানুগ্রহ অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।
প্রকল্পটির দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য সচিব আবদুল বাকি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পটির আওতায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। সব বৈদেশিক মালামাল ছাড়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অধিকাংশ মালামাল প্রকল্প সাইটে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের মে মাসের মধ্যে ট্রায়াল রান ব্যতীত প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।