প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৩ ১৪:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বব্যাংকের প্রধান হিসেবে ডেভিড মালপাসের পর ৬৩ বছর বয়সী অজয় বাঙ্গাকে মনোনয়ন দিয়েছের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে মাস্টারকার্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী অজয় বাঙ্গার বিপরীতে অন্য কাউকে মনোনীত করার জন্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে রাশিয়া। তারা এ মনোনয়ন চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণাও দিয়েছে।
যদিও আফ্রিকা সফরে থাকা অজয় বাঙ্গা ইতিমধ্যেই ভারত, ঘানা এবং কেনিয়ার সমর্থন পেয়েছেন। গত মাসের জি২০'র অর্থবিষয়ক কর্মকর্তাদের সম্মেলনেও ফ্রান্স এবং জার্মানির পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। একইসঙ্গে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের অনুমোদন পেয়েছে। তবে রাশিয়ার এই চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য প্রার্থীর ব্যাপারে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে রয়েছেন রুশ বিনিয়োগকারী, বিদেশি অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাবেক প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরা।
ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর ইউক্রেনের জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতার অভিযোগে বিশ্বব্যাংক গত মার্চে রাশিয়া এবং বেলারুশ থেকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করলেও রাশিয়া এখনো বিশ্বব্যাংকের ভোটিং সদস্য।
রাশিয়া এবং সিরিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করা বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রোমান মারশাভিন রয়টার্সকে বলেছেন, ‘সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি এবং আলোচনা এখনো চলছে।’ তিনি জানান, এ বিষয়ের শেষ সিদ্ধান্ত মস্কোতে নেওয়া হবে।
রাশিয়ার এই পরিকল্পনা প্রথম উঠে আসে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি তাসের প্রতিবেদনে।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী মারশাভিন অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে আলোচনা চালাচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছে রুশ বিনিয়োগকারী, বিদেশি অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাবেক প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরা। মারশাভিন কোন কোন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য খোলাসা করেননি।
যদিও গত ২৯ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে মনোনীত নাম গ্রহণ করবে বিশ্বব্যাংক, তবে বাইডেনের প্রস্তাবে বাঙ্গাই যে মার্কিনদের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে থাকবেন তা নিশ্চিত। কেননা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বব্যাংক প্রধানের পদে যুক্তরাষ্ট্রের কেউ না কেউ বসেছেন।
রাশিয়া এবং তাদের অন্যান্য মিত্রদের এই চ্যালেঞ্জ হয়তো এই ফলাফলে তেমন পরিবর্তন নিয়ে আসবে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ব্যাংকের তৃতীয় সর্বোচ্চ শেয়ারহোল্ডার চীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়াবে, যা বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপরও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা