× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ বগুড়ার উন্নয়ন

বগুড়া অফিস

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০:৪৫ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

তিন দশক আগেই বগুড়ায় শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন-বিসিক শিল্পনগরীর সবগুলো প্লটের বরাদ্দ। শিল্প উদ্যোক্তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সংস্থার পক্ষ থেকে জেলায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার জন্য একাধিকবার প্রকল্প নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। একই অবস্থা বগুড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পেও। যদিও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ওই প্রকল্পের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কল-কারখানা স্থাপনের জন্য তারা ৩০ বছর ধরে সরকারের কাছে জায়গা বা প্লট বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছেন। সব সরকারই তাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জায়গা না পেয়ে উদ্যোক্তাদের এখন বাধ্য হয়েই ফসলি জমি অথবা আবাসিক এলাকায় শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে হচ্ছে।

এতে একদিকে ধানসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ যেমন কমছে, অন্যদিকে আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপনের কারণে পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলনের মতে, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও যদি শিল্প স্থাপনের জন্য জায়গা না মেলে তখন উদ্যোক্তারা তো হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন না। তাই তাদের বিকল্প খুঁজে নিতে হচ্ছে।

স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ষাটের দশকে বগুড়া শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিতি পায়। এ জেলায় তখন কটন স্পিনিং মিল, গ্লাস ফ্যাক্টরি, বিড়ি কারখানা, ম্যাচ ফ্যাক্টরি ও সিরামিকসহ বড় ধরনের অনেক কলকারখানা গড়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় সাড়ে ১৪ একর জায়গা নিয়ে বিসিকের শিল্পনগরী নির্মিত হয়।

ব্যাপক চাহিদার কারণে ১৯৮০ সালে ওই শিল্পনগরীর আয়তন আরও প্রায় ১৯ একর সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু সেই বর্ধিত শিল্পনগরীর প্লটগুলোও দ্রুত শিল্প-কলকারখানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বিসিক সম্প্রসারণকালেই ১৯৮১ সালের শুরুতে শহরের ছয়পুকুরিয়া এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) ‘ভারী শিল্প’ প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে সেখানে আর কোনো শিল্প স্থাপিত হয়নি। ওই জায়গায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ে তুলতে বিসিকের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিএসইসি কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মত হয়নি।

বগুড়া চেম্বার নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিসিকের কাছে জায়গা চেয়ে না পেয়ে সড়ক-মহাসড়কের ধারে ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায় কলকারখানা স্থাপন শুরু করেন। পরে ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মিত হওয়ায় বগুড়ার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠায় কলকারখানার সংখ্যা আরও বাড়তে শুরু করে। 

বলা যায়, শিল্পে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে যায় বগুড়ায়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক শুমারি প্রতিবেদনেও যার প্রমাণ মেলে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার আগে বগুড়ায় মাত্র ১ হাজার ৫৪২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল। তবে ২০১৫ সালের মধ্যে জেলায় কুটির, মাইক্রো, মাঝারি এবং বৃহৎ ধরনের কলকারখানার সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। 

বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় পাঁচ ধরনের শিল্প-কলকারখানায় ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫১ নারী-পুরুষ স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এরমধ্যে গ্রামাঞ্চলে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯২ জন এবং বাকি ২ লাখ ৪৫৯ জন কাজ করেন শহরে। কর্মরত এসব শ্রমিকের মধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ লাখ ২৯ হাজার ৪৬৮ জনই পুরুষ। বাকি ১০ শতাংশ বা ৪৭ হাজার ২৮৩ জন নারী।

২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বগুড়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে জুট মিল, পেপার মিল, রাইস ব্রান অয়েল মিল, অটোরাইস মিল, অটো ব্রিকস্, টাইলস্ কারখানা, ফ্লাওয়ার মিল, অয়েল মিল, ওষুধ কারখানা, সেচযন্ত্র প্রস্তুতকারক ইন্ডাস্ট্রি, কলকারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেটাল ইন্ডাস্ট্রির মতো বড় বড় শিল্প গড়ে উঠেছে। রয়েছে পোল্ট্রি খাতের ফিড মিল এবং স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজও।

দেশে কৃষি যন্ত্রাংশের চাহিদার সবচেয়ে বড় জোগানদাতা বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বামমা) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজেদুর রহমান রাজু জানিয়েছেন, কলকারখানা স্থাপনের জন্য স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিসিকের কাছে কোনো জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়েই আবাসিক এলাকায় নয়তো কৃষিজমিতে শিল্প গড়েছেন। 

তিনি বলেন, এভাবে যেখানে-সেখানে কলকারখানা গড়ে তোলার কারণে কিছুদিন আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আপত্তিও জানানো হয়েছে। তাদের আপত্তিটা যৌক্তিক, সেটা আমরাও জানি। কিন্তু সরকার যদি জায়গা না দেয়, তাহলে আমরা আমাদের শিল্পগুলো কোথায় স্থানান্তর করব?

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন জানান, বগুড়ায় কলকারখানা স্থাপনের জন্য সব ধরনের পরিবেশ বিদ্যমান। সরকারকে স্বল্প খরচে জায়গা বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ফসলি জমি নষ্ট হতেই থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বগুড়ায় শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের যে আগ্রহ রয়েছে তাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিসিকের দ্বিতীয় শিল্পপার্ক হলে তার প্লটগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।’

বগুড়ায় বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক একেএম মাহফুজুর রহমান জানান, বিসিকের ২৩৩টি প্লটের একটিও ফাঁকা নেই। ওইসব প্লটে ৯৪টি কলকারখানা রয়েছে। স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা আরও প্লট চান। তাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে জেলার শাজাহানপুরে ৩০০ একর জমিতে আধুনিক শিল্পপার্ক গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে প্রায় আড়াইহাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। 

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদানের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাঠানো হবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা