প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:০৩ পিএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩৯ পিএম
প্রবা ফটো
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ১১৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার। যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ৯ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যেখানে সারা বিশ্ব থেকে ইউরোপে পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থের হিসাবে যার পরিমাণ ৯ হাজার ৫১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার। যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ১০ লাখ ডলারে।
ইউরোস্ট্যাটের হিসাবে, ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে অবস্থান করছে চীন। এই সময়ে ইউরোপ চীন থেকে আমদানি করেছে ২ হাজার ৭৯৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের পোশাক।
যেখানে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আমদানি করেছিল ২ হাজার ৩৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পোশাক। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটির রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।
একই সঙ্গে তুরস্ক থেকে ইউরোপের আমদানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এতে আমদানি পৌঁছেছে ১ হাজার ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলারে। যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ৯৯৩ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এ ছাড়া ভারত থেকে ৪৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এতে এক বছর ব্যবধানে ভারতে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে কম্বোডিয়া থেকে ৩৪৮ কোটি ডলার, ভিয়েতনাম থেকে ৪১৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার, পাকিস্তান থেকে ৩৫৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, মরক্কো থেকে ২৯৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, শ্রীলঙ্কা থেকে ১৪৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের পোশাক পর্যন্ত আমদানি করেছে ইউরোপ।
এতে এক বছর ব্যবধানে কম্বোডিয়ার ৩৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৩৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ২৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ, মরক্কোর ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার, ২৭ দশমিক ৮০ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
রপ্তানির এমন প্রবৃদ্ধির বিষয়ে নিট পোশাকমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ’ইউরোপের বাজারে আমরা আরও ভালো করব। যদি পোশাকশিল্পের সংকট এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে ওঠা যায়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন নানা সংকটে রয়েছে। অর্ডার বেশ কম পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ার পরও কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আমাদের হাতে এখন মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্রয়াদেশ রয়েছে। অর্থাৎ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্ডার কম রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, ২০২৪ সালটা ভালো যাবে। এক্ষেত্রে ২০২৩ সালটা এভাবে সংকটেই যাবে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভালো রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যেই মনোযোগী ব্যবসায়ীরা।’
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ’ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে নভেম্বর পর্যন্ত বেশ ভালো ফলাফলই দেখা যাচ্ছে। তবে, নভেম্বরের পর থেকে সামগ্রিক রপ্তানি আয় কমবে। কেননা, প্রধান যে অর্থনৈতিক মন্দা তা কিন্তু নভেম্বরের পরেই আঘাত করেছে। এর মধ্যেও বাংলাদেশ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ হিসেবে ভালো করছে। যার মূল কারণ, ক্রেতাদের বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বাড়ছে। আমরাও সবুজ কারখানা নির্মাণের পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্য তৈরিতে মনোযোগী হচ্ছি। এখন দেখার বিষয়, সামনের দিনগুলোতে কী হয়। তবে শঙ্কা রয়েছে ডিসেম্বর, জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় কমার। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তৈরি পোশাক খাত আরও বেশি শক্ত অবস্থানে যাবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।’