এনবিআর-আত্মার প্রাক-বাজেট সভা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩০ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:১১ পিএম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে সব তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। সভায় আত্মার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ৯,৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে এবং ৪ লাখ ৮৮ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ও ৪ লাখ ৯২ হাজার তরুণের অকালমৃত্যু রোধ সম্ভব হবে।
এ সভায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আত্মার পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুকান্ত গুপ্ত অলোক, বিডিনিউজ২৪ ডমকমের চিফ ক্রাইম করসপনডেন্ট ও আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, গ্রিন টিভির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ও আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ, দি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের স্পেশাল করসপনডেন্ট দৌলত আক্তার মালা এবং দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার ও আত্মার কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী। সভায় এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, ‘তামাকপণ্যে করারোপের ক্ষেত্রে অ্যাড ভ্যালুরেমের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তনের আইডিয়া ভালো। প্রস্তাবগুলো যুক্তিসঙ্গত, আমরা এগুলো পর্যালোচনা করে দেখব।’
সভায় আত্মার পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে নিম্ন স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫৫ টাকা নির্ধারণ করে ৩৫.৭৫ টাকা সম্পূরক শুল্ক, মধ্যম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৭০ টাকা করে ৪৫.৫০ টাকা শুল্ক, উচ্চ স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১২০ টাকা নির্ধারণ করে ৭৮ টাকা শুল্ক এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৯৭.৫০ টাকা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।
ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১১.২৫ টাকা শুল্ক এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৯ টাকা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়। ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে ২৭ টাকা শুল্ক এবং ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১৫ টাকা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন চার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।
দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। তামাক ব্যবহারে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তামাকের দাম বেশি হলে তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং বর্তমান ব্যবহারকারী বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হয়।