এফএওর পূর্বাভাস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৩:০১ পিএম
বিশ্বে এবার রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন হবে। ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়া এবং রাশিয়ায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন হতে পারে। দেশ দুটিতে ২০২২ মৌসুমে গম উৎপাদনের পরিমাণ ৭৯ কোটি ৪০ লাখ টন হতে পারে বলে এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা- এফএও।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এসময় অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে ২৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি টন। যা ২০২১ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
এদিকে ২০২২ সালে চাল এবং গমের বাইরে ভুট্টাজাতীয় খাদ্যশস্য ১৪৫ কোটি টন হবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও। তবে এ জাতীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস গত ডিসেম্বরে তুলনায় কিছুটা কম এবং ২০২১ সালের তুলনায় এক- তৃতীয়াংশ কম হবে।
তবে উৎপাদন কমার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার ভুট্টা উৎপাদন কমাকেই কারণ হিসেবে দেখছে এফএও। যদিও চীনের উৎপাদন এ ঘাটতি পূরণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্বাভসের তুলনায় চীনে চালের উৎপাদন কম হবে। যদিও বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশে পূর্বাভসের তুলনায় চাল উৎপাদন বাড়তে পারে। তারপরেও চলতি মৌসুমে চাল উৎপাদন ২০২১ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম হবে।
চলতি বছরে শস্য উৎপাদনের বিষয়ে এফএও বলেছে, উত্তর গোলার্ধে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন গম চাষের জন্য সম্ভাব্য এলাকা সম্প্রসারণ করতে হবে। তবে এদিকে গম চাষে উচ্চ মূল্যে সার কিনে ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। যার প্রভাবে গমের দাম কিছুটা বাড়বে।
গমের অভ্যন্তরীণ দাম কম থাকায় বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ায় গমের আবাদ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে ইউক্রেনে যুদ্ধের ফলে শীতকালীন গমের আবাদ ৪০ শতাংশ কমতে পারে বলে অনুমান করছে এফএও। তবে ভারত এবং পাকিস্তানে রেকর্ড পরিমাণ গম রোপণের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে চলতি বছরে বেশিরভাগ ভুট্টাজাতীয় খাদ্যশস্য রোপন করা হয়েছে। এফএও বলছে, ব্রাজিল রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে। যদিও আর্জেন্টিনায় মাটির আর্দ্রতা কম হওয়ায় উপৎপাদন কমতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ভুট্টার ভাল ফলনের জন্য অনুকূল আবহাওয়া থাকবে।
২০২২-২৩ বাণিজ্য বছরে বিশ্বে খাদ্যশস্য বিপণন গত বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২৭৭ কোটি টনে দাঁড়াবে। এসময়ে গমের বিপণন বাড়লেও সামান্য পরিবর্তন হতে পারে চালে। বছর শেষে গম এবং চালের বাইরে অন্যান্য খাদ্যশস্য বিপণনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৪ কোটি ৪০ লাখ টন। আগের বছর যেখানে ৪৭ কোটি ৪০ লাখ টনের শস্য বাণিজ্য হয়েছিল তা চলতি বছরে ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছে এফএও।
সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৫ সালের পর এবার খাদ্য মূল্য সূচক রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালের খাদ্য শস্যের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। ২০২২ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে লড়াই করা লোকের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী ২০১৯ সালে যেখানে ব্যাপক খাদ্যহীনতায় ভোগা লোকের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫০ লাখ, সেখানে বিদায়ী বছরে তা দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ।
আগামী মাসগুলোতে খাদ্য শস্যের বাজার কিছুটা সহনীয় হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্য সংকট কাটবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত ক্যারি ফাউলার বলেন, ‘খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনা মহামারির প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জ্বালানির উচ্চ দাম এখনও আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমি মনে করি ২০২৩ সাল আমাদের জন্য একটি রুক্ষ বছর হতে যাচ্ছে। এ সময়ের জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।’