প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন পাঁচটি ইপিজেডে আটটি ছয়তলা কারখানা ভবন নির্মাণ প্রকল্প গত ২৮ জানুয়ারি বেপজার প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৪৬৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ মেয়াদে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে বেপজা।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বেপজার আওতাধীন ইপিজেডগুলো বর্তমানে ব্যবসার নিজস্ব মোট ৭৮টি কারখানা ভবনে ৯০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার ফ্লোর স্পেস ৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৪ বর্গমিটার, যা সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত ইপিজেডগুলো পরিদর্শন করছে এবং বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে। কিন্তু বরাদ্দ উপযোগী কারখানা ভবন খালি না থাকায় বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
বেপজা বলছে, প্লট বরাদ্দের পরিবর্তে কারখানা ভবন নির্মাণ করে ফ্লোর স্পেস ভাড়া দিলে প্রায় ১১ গুণ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। ইপিজেডগুলোতেই শিল্প প্লট খালি না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছেড়ে দেওেয়া প্লটেই কারখানা ভবন নির্মাণ করে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব। প্লট বরাদ্দের পরিবর্তে কারখানা ভবন নির্মাণ করে আগত বিনিয়োগকারীকে তাৎক্ষণিক বিনিয়োগে আকর্ষণ করা সম্ভব। প্লট বরাদ্দের পরিবর্তে কারখানা ভবন নির্মাণ করা হলে একাধিক বিনিয়োগ ও অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বেপজা কর্তৃক কারখানা ভবন নির্মাণ করা হলে ফ্যাক্টরি স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত হবে। এই ভবনগুলো নির্মাণ হলে প্রতিমাসে ৩ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হবে এবং ১৪ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে; যা দারিদ্র্যবিমোচনে বিশাল ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হলোÑ আটটি ছয়তলা কারখানা ভবন, আটটি একতলা ইউটিভিটি ভবন নির্মাণ করা। ১৬টি ১ হাজার কেভিএ সাবস্টেশন স্থাপন। দুটি ডাবল কেবিল পিকআপ, চারটি মোটরসাইকেল ও চারটি ল্যাপটপ ক্রয়। স্যানিটারি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সুবিধা, সংযোগ রাস্তা, পানি সংরক্ষণ জলধার এবং অন্যান্য প্রয়োজনের সুবিধা সৃষ্টি করা।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় বেপজার প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বেপজার আওতাধীন ইপিজেডগুলোতে নিজস্ব অর্থায়নে আটটি ছয়তলা কারখানা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। তিনি সভাকে অবহিত করেন যে, প্রকল্পের ডিপিপি ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়ে গত ২৪ অক্টোবর প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠন করে গত ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৬৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম ইপিজেডে চারটি, ঈশ্বরদী ইপিজেডে দুটি, মোংলা ইপিজেডে একটি এবং উত্তরা ইপিজেডে একটিসহ মোট আটটি ছয়তলাবিশিষ্ট কারখানা ভবন নির্মাণ করা হবে।
কারখানা ভবনগুলোর বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা নিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বেপজা কর্তৃক নির্মিত কারখানা ভবনে ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয় বলে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রস্তাবিত কারখানা ভবনগুলোর বিপুল চাহিদা রয়েছে। কারখানা ভবন নির্মাণ করার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, বর্তমানে বেপজা কর্তৃক নির্মিত কোনো কারখানা ভবনে ফ্লোর স্পেস খালি নেই। শিল্প প্লটের তুলনায় ফ্লোর স্পেস বরাদ্দে প্রায় ১১ গুণ রাজস্ব বৃদ্ধি পায় বিধায় তা বেপজার জন্যও লাভজনক হবে।