প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১৫ পিএম
সংগৃহীত
ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মান ধরে রাখতে পারছে না বেশিরভাগ দেশ। ফলে দরপতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার। ফলে উচ্চমূল্যের ডলার ব্যবহার করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছেন অনেক দেশের বিনিয়োগকারীরা। যার প্রভাবে কমতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি। তাই ব্যবসার বর্তমান পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডকে সতর্ক করেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। তাদের সতর্কতার পর ব্যাংকঋণে সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর করেছে ফেড। ফলে টানা আট মাসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর কমল মার্কিন ডলারের দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেশনে মার্কিন ডলারের মূল্যসূচক শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৫২ থেকে ১০১ দশমিক ৬৫ হয়। তবে টানা আট মাসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর গতকাল বৃহস্পতিবার মূল্যসূচক কমে ১০১ দশমিক ৫১ হয়েছে।
এদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাংকঋণে সুদের হার বাড়াচ্ছে ফেড। সুদের হার বাড়ায় উচ্চহারে বেড়েছে ডলারের দাম। ডলারের বিপরীতে মুদ্রার দরপতন ঠেকাতে সুদের হার বাড়িয়েছে অন্য দেশগুলোও। তবে ফেডের উচ্চ সুদের হার বৃদ্ধির নীতির বিপরীতে মুদ্রার দরপতন ঠেকাতে পারেনি বেশিরভাগ দেশ। ব্যবসায়িক সংকটের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং প্রযুক্তি খাতের কর্মী ছাঁটাইয়ের চিত্র থেকে সহজেই বোঝা যায় আমরা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছি। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ফেড যেন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আক্রমণাত্মকভাবে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
তবে চলতি বছরের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি আরও ধীর হতে পারে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েলস ফার্গোর অর্থনীতিবিদরা। তাদের ধারণা, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ সময়ের পূর্বাভাস দেয়। ভবিষ্যতে মার্কিন অর্থনীতি আরও ধীর হতে পারে। আমরা এখন বিশ্বাস করি মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বেশিরভাগ বিদেশি মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করেছে।
আগামী সপ্তাহে দুদিনব্যাপী চলবে ফেডের নীতিনির্ধারণ কমিটির বৈঠক। যেখানে বর্তমান ৫০ বেসিস পয়েন্ট থেকে কমিয়ে ২৫ বেসিস পয়েন্টে (বিপিএস) সুদের হার বৃদ্ধি করা হবে। গত বছর সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৫ বেসিস পয়েন্টে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবে, যেখানে তারা ৫০ বেসিস পয়েন্টে সুদের হার বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতিও ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১ দশমিক ৩৩ কানাডিয়ান ডলার লেনদেন হচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি রোধে সুদের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করেছে ব্যাংক অব কানাডা। চার দশকের মধ্যে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও সবচেয়ে কম হয়েছে। করোনা মহামারি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ২০২২ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ২০২১ সালেও ছিল ৮ শতাংশের বেশি। এর আগে ১৯৭৬ সালে দেশটির অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হয়েছিল। সে সময় দেশটির জিডিপির গড় ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে চলতি বছর চীনের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হবে জানিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর কোভিড-ব্যবস্থা কার্যকর করেছে চীন। তবে গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে মহামারিসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে বেইজিং। মহামারি শুরুর পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হয়েছে। বিনিয়োগ কমায় সে সময় রপ্তানি সংকোচনের হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।