সোহেল চৌধুরী
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:১১ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফর্দে এবার যোগ হয়েছে মসলাজাতীয় পণ্য আদা ও রসুন। আমদানি সংকটের অজুহাতে আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। আর আমদানিকৃত চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে দেশি আদা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আমদানিকৃত চায়না আদা বিক্রি হয়েছে ২১০ থেকে ২৫০ টাকায়। একই সঙ্গে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। আর আমদানিকৃত চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে গত সপ্তাহে এক কেজি দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা দরে। আর আমদানিকৃত চায়না রসুনের দর ছিল ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা।
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ দাম বাড়ছে, আদা রসুনের আমদানি কম থাকায় মালের (আদা, রসুন) দাম বাড়তেছে। আড়তেই মালের আমদানি কম। প্রতি কেজি মালে ২০ থেকে ৪০ টাকা বাইড়া গেছে।’
আরেক খুচরা ব্যবসায়ী জসীম মিয়া বলেন, ‘কম দামে পণ্য পাইলে তো সমস্যা নেই। সমস্যা হয়ে যায় বেশি দাম দিয়ে পণ্য কেনা পড়ে যায়। এখন দাম যদি বেশি পড়ে তাহলে বেশি দামে তো বিক্রি করতে হবেই। আমরা যে দামে পণ্য কিনি তার অল্প কিছু লাভ হলেই বিক্রি করে দেই।’
চড়া দামের বিষয়ে রাজধানীর শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলসি খোলার জটিলতায় কমেছে আদা রসুনের আমদানি। তাই বাজারও কিছুটা চড়া।
এ বিষয়ে শ্যামবাজারের পাইকারি বিক্রেতা শামসুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এলসি কম হওয়ার কারণেই বাজারটা এমন। শিগগিরই এলসি খোলা স্বাভাবিক করা না গেলে দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। ইতোমধ্যে দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক না থাকলে দাম সামনে আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।’
তবে এলসি খোলার জটিলতা থাকলেও পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের পার্থক্য বেশ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শ্যামবাজার কৃষিপণ্য বণিক সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ মাজেদ। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘বাজারে সংকটের কথা বলে যতটা ভয় দেখানো হয়, তা ঠিক নয়। এলসি খোলার জটিলতায় আমদানিতে কিছুটা ভাটা আছে, তবে দাম অতিরিক্ত হারে বাড়তে থাকবে এটা ঠিক নয়। শ্যামবাজারে বার্মা আদা বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা দরে। খুচরা বাজারে তা গিয়ে বিক্রি হতে পারে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। আর চায়না আদা আমদানিতেই খরচ বেশি পড়ে যায়। তাই ওইভাবে এখন কেউ আমদানি করে না। আর দেশি রসুন শ্যামবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। যা খুচরায় বিক্রি হতে পারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা দরে। একই সঙ্গে চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, যা খুচরা বাজারে গিয়ে বিক্রি হতে পারে ১৪০ টাকায়। এর বাইরে বিক্রি করে থাকলে তো আমাদের করার কিছু নেই।’
খুচরা বাজারে আদা রসুন ন্যায্যমূল্যে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খুচরা ব্যবসায়ীরা আড়ত বা পাইকারি বাজারের দোহাই দিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে। এটা নিয়ন্ত্রণে ক্যাশ মেমো দেখা উচিত। প্রকৃতপক্ষে তারা কত দাম দিয়ে পণ্য কিনছে, আর কত দাম দিয়ে বিক্রি করছে, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
আদা, রসুনের এমন ঊর্ধ্বমুখী দামে ক্ষুব্ধ ভোক্তাসাধারণ। রমজানের আগেই দাম বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করছেন না ক্রেতারা। আদা, রসুনের দাম নিয়ে কারওয়ান বাজারের ক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, ‘আজ এই পণ্যের দাম বাড়ছে তো কাল অন্য পণ্যের দাম বাড়ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে উপায় কী হবে বলেন! এখন আদা, রসুনের দাম বাড়ছে, বেতন তো আর বাড়েনি যে বেশি টাকা দিয়ে কিনব। যদি বেতন বাড়ত আর পণ্যের দাম বাড়ত সমস্যা ছিল না। দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এখন টিকে থাকা বেশ কষ্টকর।’
আরেক ক্রেতা সজীব হোসেন বলেন, ‘বাজারে আসলেই বিক্রেতারা বলেন পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বাজারে দাম বাড়ে। এখন আমরা তো জানি না কেমনে কী বাড়ল। এক্ষেত্রে সঠিক একটা পন্থা অবলম্বন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।’
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, গত এক মাসে প্রতি কেজি দেশি আদার দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। আর আমদানিকৃত আদার দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ। একইভাবে প্রতি কেজি দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ৪৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর মানভেদে আমদানিকৃত রসুনের দাম বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।