× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ঢাকা উত্তরের সড়কবাতির প্রকল্প

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:১২ পিএম

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:০৯ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়কগুলোতে ৫ হাজার সিসি ক্যামেরাসহ ৪০ হাজার এলইডি বাতি লাগানোর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনও শেষ হয়নি প্রকল্পটির কাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ২২ লাখ টাকা ব্যয় কমিয়ে আরও ছয় মাস সময় চেয়েছে ডিএনসিসি।

এদিকে আগের প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করেই সড়কবাতি স্থাপনে নতুন আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিএনসিসি। উত্তরের নতুন ওয়ার্ডের সড়কগুলো আলোকিত করতে এলইডি বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকার সড়কে প্রায় ৫ হাজার এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এজন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। ডিএনসিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া অনুন্নত এলাকাগুলোতে আলোকিত করা প্রয়োজন। এসব এলাকায় অনেকগুলো হাউজিং হয়েছে। এসব ওয়ার্ডের যেসব এলকায় রাস্তা হয়নি, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি, সেসব এলাকায় সড়কবাতি লাগানো যায়নি। নতুন প্রকল্পের আওতায় সেসব এলাকার সড়কে নতুন করে এলইডি বাতি লাগানো হবে। 

এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়কগুলোতে ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ হাজার ৮১২টি এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। তবে ২০১৭ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এলইডি সড়কবাতি সরবরাহ ও স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সর্বশেষ ২২ লাখ টাকা ব্যয় কমিয়ে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানো হয়েছে।  

নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ না করতে পারার কারণ হিসেবে ডিএনসিসি বলছে, মিরপুর ১২ থেকে কাওরানবাজারের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ বাস্তবায়নাধীন থাকায় এ লাইনে এলইডি স্থাপনের কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া হস্তান্তর কার্যক্রম নিশ্চিত না হওয়ায় আরও অনেকগুলো সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করা যায়নি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরুর কথা থাকলেও কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। নানা জটিলতায় কাজ সময়মতো শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে মেট্রোরেলের কাজ চলমান থাকায় কাজ করা যায়নি। তবে মেট্রোরেলের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন দ্রত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ’ইতোমধ্যে অধিকাংশ বাতি স্থাপন করা হয়ে গেছে। প্রকল্প থেকে গাড়ি কেনা এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ বাদ যাওয়ায় বরাদ্দের সব টাকা ব্যয় হয়নি। জনস্বার্থে অব্যবহৃত টাকা দিয়ে মূল প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত একটি প্যাকেজ যুক্ত করে প্রকল্প এলাকাভুক্ত অনুন্নত সড়কে বাকি ১ হাজার ৯১৩টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।  

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় দেখা যায়, প্রথম প্রস্তাবনায় প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৪২ কোটি টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৭৩ কোটি টাকা কমিয়ে ৩৬৯ কোটি টাকা করা হয়। পরে দুই বারে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও কাজ শেষ করতে পারেনি সংস্থাটি। এবার ব্যয় কমিয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবনায় অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। নতুন করে ব্যয় কমিয়ে ধরা হয়েছে ৩৬৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। 

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ডিএনসিসি হস্তান্তর কার্যক্রম নিশ্চিত না হওয়ায় মিরপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্টার্ন হাউজিং, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে খালপাড় রোড, গুলশান জোনের মধ্যে মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার, বসিলা এলাকাসহ বিভিন্ন প্রধান সড়কে এখনও এ প্রকল্পের অধীনে সড়কবাতি স্থাপন সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রকল্প এলাকাভুক্ত এসব সড়কে বাতি লাগানোর উপযোগী হওয়া এবং ইতোমধ্যে এমআরটি এলাকার সড়কবাতি লাগানোর উপযোগী হয়েছে। এ ছাড়া এলাকাগুলোতে চলমান প্রকল্প এলাকাভুক্ত হওয়ায় এসব সড়কে বাতি স্থাপনের জনপ্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জনপ্রত্যাশা পূরণ এবং প্রকল্পে সফল সমাপ্তির জন্য প্রকল্পের মূল খাতের অব্যবহৃত টাকায় সড়কবাতি স্থাপন সংক্রান্ত অতিরিক্ত একটি প্যাকেজ যুক্ত করা হয়েছে।  

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ব্যবস্থা ও পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিবেশবান্ধব, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, টেকসই ও আধুনিক এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।    

সংশোধনী প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় ১৮টি প্যাকেজের মধ্যে ১১টি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। ৬টি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে এবং অতিরিক্ত একটিসহ দুটি প্যাকেজের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা