× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সরাসরি তালিকাভুক্তি সহজ করার উদ্যোগ ডিএসইর

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লিস্টিং বা তালিকাভুক্তি বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর লক্ষ্য বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া সহজ করা।

ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ইতিমধ্যে এই খসড়া প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব পাস হলে কোম্পানিগুলো আইপিও ছাড়া সরাসরি বাজারে আসতে পারবে। তারা নতুন শেয়ার না ছেড়ে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মাধ্যমিক বাজারে যুক্ত হতে পারবে।


অতীতের নিয়ম অনুযায়ী ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি উভয় কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারত। তবে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডসহ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাজারে কৃত্রিমভাবে বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে। এর ফলে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা অনৈতিক সুবিধা পান। এই অনিয়মের কারণে পরবর্তীতে বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তাই বর্তমান প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে বিএসইসিকে তার আগের সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিএসইসি চাইলে তাদের পূর্ববর্তী আদেশটি বাতিল করে আইনি বাধা দূর করতে পারে।

ডিএসইর একজন কর্মকর্তা বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান বিএসইসিতে এমন কিছু সদস্য আছেন যাদের বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে বহুজাতিক সংস্থাগুলোর প্রক্রিয়া সহজ করতে তারা খসড়ায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিতে পারবেন। এই খসড়ায় অপ্রয়োজনীয় ও জটিল আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো সরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বেশ কিছু আর্থিক শর্ত শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য কোনো কোম্পানির সর্বনিম্ন পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা হতে হয়। ডিএসই এই নিয়মটি শিথিল করতে চায়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিগত পাঁচ হিসাববছরের মধ্যে অন্তত তিন বছর মুনাফা দেখাতে হয়। ডিএসই এই শর্ত কমিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে যেকোনো দুই বছর মুনাফা থাকার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সাথে শেয়ার ছাড়ার নিয়মও নমনীয় করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে তালিকাভুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোম্পানিগুলো যেন কোনো বাড়তি চাপ ছাড়া বাজারে আসতে পারে, সেজন্য ডিএসই এই নিয়মে ছাড় চায়।

ডিএসই সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান নিয়মে একটি কোম্পানিকে আইপিও প্রস্তাবের সাথে বিশাল নথিপত্র জমা দিতে হয়। তবে নতুন সংশোধনী পাস হলে যেকোনো একটি স্টক এক্সচেঞ্জের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সব নথি জমা দেওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জ নিজেই সেই নথিপত্র যাচাই করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠাবে।

এর পাশাপাশি বর্তমানের 'দ্বৈত তালিকাভুক্তি' বা দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন নিয়মে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান যেকোনো একটি এক্সচেঞ্জ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা পাবে। এর ফলে তাদের তালিকাভুক্তির খরচ অনেকটাই কমে যাবে। 


বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে এবং ভালো মানের কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে এই সংস্কার অত্যন্ত সময়োপযোগী। নিয়মকানুন ও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সহজ হলে দেশের বড় বড় বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবে। তবে অতীতে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুবিধা নিয়ে যে ধরনের অনিয়ম হয়েছিল, তার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। আইনি সহজীকরণ এবং স্বচ্ছ জবাবদিহিতার চমৎকার সমন্বয়ের মাধ্যমেই পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।



শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা