× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রথাগত ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে ব্যাংক

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রথাগত কাঠামো বদলে গেছে। গত চার বছরে এই পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালেও ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রধান উৎস ছিল ঋণ বিতরণ। চার বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে।

এখন আর ঋণ নয়, সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগেই মুনাফা বেশি হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এর পেছনে বড় বিপদ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হয়ে যেতে পারে।

বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন কম। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর সুদভিত্তিক আয় বা নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম চাপে পড়েছে। একই সময়ে দেশে আমদানি কমে গেছে। ফলে এলসি খোলাসহ বিভিন্ন সেবা থেকে কমিশন আয় কমেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো টিকে থাকতে চায়। তারা ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। এর বদলে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড বেছে নিয়েছে। এখানে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই চড়া সুদ মিলছে।

ব্যাংকগুলোর বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে এই চিত্র স্পষ্ট হয়। ২০২১ সালে দেশের প্রধান ৫২টি ব্যাংকের মোট আয় ছিল ৪০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। তখন মোট আয়ের ৪৭ শতাংশ এসেছিল ঋণের সুদ থেকে। সরকারি সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে এসেছিল ৩৪ শতাংশ। বাকি ১৯ শতাংশ ছিল কমিশনভিত্তিক আয়। ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়ে। তবে তা সুদ আয়ের চেয়ে কম ছিল। ২০২৪ সালে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। ওই বছর প্রথমবারের মতো সুদ আয়ের চেয়ে বিনিয়োগ থেকে আয় বেশি হয়। এটিই ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়।

২০২৫ সালে এসে এই প্রবণতা চরম আকার ধারণ করে। এ বছর মূল ব্যাংকিং ব্যবসা বা নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম মোট আয়ের মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশে ঠেকেছে। বিপরীতে বিনিয়োগ থেকে আয় এক লাফে অনেক বেড়েছে। এটি এখন মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ। বাকি প্রায় ২০ শতাংশ এসেছে কমিশন থেকে। গত তিন বছর ধরে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ঋণ ব্যবসার আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। এমনকি ২০২৫ সালে কমিশন আয়ও আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। বিপরীতে গত পাঁচ বছর ধরে কেবল সরকারি বন্ডের আয়ই ঊর্ধ্বমুখী।

ব্যাংকাররা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমতে শুরু করলেই ব্যাংকগুলো বড় সংকটে পড়বে। তিনি এই পরিবর্তনের কারণও ব্যাখ্যা করেন। আমানতের বিপরীতে সুদের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে ঋণের মুনাফার মার্জিন কমে গেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি। ফলে বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে ব্যাংক কোনো সুদ পাচ্ছে না। অথচ আমানতকারীদের ঠিকই সুদ গুনে যেতে হচ্ছে।

তারা বলছেন, একটি ব্যাংকের প্রধান আয় হওয়া উচিত ঋণ বিতরণ থেকে। কিন্তু খেলাপি ঋণের বোঝা ব্যাংকগুলোকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একই সাথে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য কমে গেছে। ফলে কমিশন এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের মুনাফাও উধাও হয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে মূল ব্যবসায় ফিরতেই হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে এর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেজারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর স্পষ্ট প্রণোদনা ছিল। কারণ সেখানে ভালো মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল। অন্যদিকে ঋণ দেওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়েছে। ব্যাংক স্বাভাবিকভাবেই এমন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করবে, যেখানে কম ঝুঁকিতে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়।

তবে ব্যাংকগুলো যদি ঋণ দেওয়ার বদলে সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে পুরো অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ সীমিত হবে। দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হয়ে যাবে। ট্রেজারি সিকিউরিটির সুদের হার যতদিন বেশি থাকবে, ততদিন ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করতে পারবে। পরে সুদের হার কমতে শুরু করলে শুরুতে ট্রেজারি বন্ড থেকে মূলধনী মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইন মিলতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর মোট আয় কমে আসবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরালো না হলে এই বিপুল অর্থ উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতে ঋণ হিসেবে স্থানান্তর করা কঠিন হবে।

ব্যাংকারা বলছেন, আমদানি ও রপ্তানি—দুটিই দুর্বল। তাই বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট ফি ও কমিশন কমেছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেন তলানিতে নেমেছে। ফলে যেসব ব্যাংকের নিজস্ব ব্রোকারেজ হাউস আছে, তাদের কমিশনও কমেছে। তবে চলতি বছরে এই কমিশন আয় কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯৬০ কোটি টাকায়। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ৫৭৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৫৬৬ কোটি টাকায়। আর ২০২৫ সালে দৈনিক গড় লেনদেন আরও কমে মাত্র ৫১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

মূলত খেলাপি ঋণ, আমদানির স্থবিরতা এবং পুঁজিবাজারের মন্দার কারণে ব্যাংকগুলো প্রথাগত ব্যবসা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বন্ডের ওপর এই অতি-নির্ভরতা সাময়িকভাবে মুনাফা দেখাচ্ছে। তবে তা অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতকে বঞ্চিত করছে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে হলে ব্যাংকগুলোকে পুনরায় ঋণ বিতরণে ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় সরকারি ঋণের সুদের হার কমলে পুরো ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে পড়তে পারে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা