নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ০২:২৬ এএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬ ০২:২৯ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম তেমন না বাড়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মূল্যস্তরের কারণে বাজারে কম দামি সিগারেটের আধিপত্য আরও বাড়বে। ফলে ধূমপায়ীর হার কমবে না। অন্যদিকে তামাক খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় তো দূরের কথা, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খোদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে নিম্ন স্তরের সিগারেটের
দাম মাত্র ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ১৫ শতাংশ, উচ্চ
স্তরের ১৪ শতাংশ ও অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বাজেটের সিগারেটের জন্য দেওয়া নতুন
মূল্যস্তরের ফলে নিম্ন স্তরের সিগারেটের ভোক্তা আরও বেড়ে যাবে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে
উদ্বেগ আগের তিমিরেই থাকবে। সেই সাথে সরকারের রাজস্ব আদায়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের দ্বিমুখী স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আগামী
৩০ জুন প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের আগেই সিগারেটের নিম্নস্তরের মূল্য পুনর্মূল্যায়ন
করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেড় দশক আগে বাজারের প্রায়
৮০ শতাংশ ছিল মধ্যম ও নিম্ন স্তরের সিগারেটের দখলে। বর্তমানে তা বেড়ে পৌঁছেছে প্রায়
৯০ শতাংশে। অধিকাংশ ধূমপায়ীই এই স্তরের সিগারেটের প্রতি ঝুঁকছেন। উচ্চ স্তরের সিগারেটের
তুলনায় নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে কম হারে বাড়ানোয় এই
প্রবণতা আরও বেড়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের নতুন মূল্যস্তরের কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির
আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “সিগারেটের বর্তমান মূল্যস্তরে যে বৈষম্য
তৈরি হয়েছে, তা জাতীয় রাজস্ব আহরণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সরকারের অন্যতম বৃহৎ এই
রাজস্ব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে সামগ্রিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও নেতিবাচক প্রভাব
পড়বে।”
দেশের বেশিরভাগ ধূমপায়ী নিম্ন স্তরের সিগারেট ব্যবহার করেন। অথচ সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে এই স্তরের সিগারেটের দাম সবচেয়ে কম হারে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ধূমপায়ীর হার
কমেনি, উল্টো গতি হারিয়েছে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য বৈষম্যের কারণে নিম্নস্তরের সিগারেট ধীরে
ধীরে আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ফলে উচ্চমূল্যের সিগারেট ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ ধূমপান
ছেড়ে না দিয়ে কমদামি নিম্নস্তরের সিগারেটে চলে এসেছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের চারটি স্তরেই
মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হলেও নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে।
এতে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে
৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণের
প্রস্তাব করা হয়েছে।