প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ভোক্তাবান্ধব বলে জানিয়েছে ক্যাব। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ভোক্তাবান্ধব আখ্যা দিয়ে এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন শুক্রবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আশা প্রকাশ করেন।
বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি সরকারের উপস্থাপিত এই বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর অব্যাহতি, তামাকজাত ও স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যে কর বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ছাড় এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মতো ইতিবাচক উদ্যোগ রয়েছে।
তবে এসব সুবিধা প্রকৃত অর্থে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে কঠোর তদারকি, নাগরিক পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছা ও দক্ষতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, অতীতে তদারকির ঘাটতির কারণে কর ছাড় ও বিভিন্ন প্রণোদনার সুফল অনেক ক্ষেত্রেই জনগণ পায়নি। বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাও ঘটেছে।
তাই ব্যবসায়ীরা কোনো নতুন কৌশলে সরকারি সিদ্ধান্তকে অকার্যকর করছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আহ্বানও জানান।
কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কর হ্রাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এস এম নাজের হোসাইন বলেন, অধিকাংশ মানুষ কর দিতে আগ্রহী হলেও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই কর ব্যবস্থার বাইরে থাকেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও প্যাকেজভিত্তিক কর কাঠামো চালু করা হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে এবং কর প্রদানে আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ট্রেন ও মেট্রোরেলে কর ছাড়ের প্রস্তাবকে ইতিবাচক উল্লেখ করলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন, টিকিটপ্রাপ্তির বিদ্যমান সংকটের মধ্যে এই সুবিধা তারা কীভাবে ভোগ করবেন।
এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে কর ছাড়ের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বরাদ্দের পরিমাণ নয়, বরং তার সঠিক বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ ও পক্ষপাতিত্ব দূর না হলে বাজেট বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবে তিনি মনে করেন, ভোক্তা শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমে বরাদ্দ না বাড়ানো, আয়করমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত না করা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি না বাড়ানো এবং টিসিবিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের অভাব সাধারণ ভোক্তাদের কিছুটা হতাশ করেছে।
এর পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সম্প্রসারণে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।