প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬ ১০:৪৩ এএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬ ১০:৫২ এএম
বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস কর্তৃক প্রদর্শিত তিন কক্ষের ‘ফার্স্ট-ক্লাস এক্সপেরিয়েন্স’ কেবিন। ছবি: এয়ারবাস
বিলাসবহুল বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে প্রথম শ্রেণির (ফার্স্ট ক্লাস) কেবিনে ব্যক্তিগত বাথরুম যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি এয়ারলাইনস। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত সেন্টার ফর এভিয়েশন (সিএপিএ) এয়ারলাইন লিডার সামিটে ভিডিও বার্তায় এমন ইঙ্গিত দেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী এবং দুবাই-ভিত্তিক এয়ারলাইন এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক।
তিনি বলেন, “ফার্স্ট ক্লাসের জন্য সংযুক্ত (এন-স্যুইট) বাথরুম নিয়ে কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে এটি বিলাসবহুল বিমান ভ্রমণের নতুন মানদণ্ড হয়ে উঠতে পারে”।
বিশ্বব্যাপী বিমান সংস্থাগুলোর জন্য প্রিমিয়াম শ্রেণির যাত্রীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্টের (আইএটিএ) তথ্য অনুযায়ী, মোট যাত্রীর মাত্র ৩ শতাংশ হলেও বিজনেস ও ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রীরা বিমান সংস্থাগুলোর প্রায় ১৫ শতাংশ রাজস্ব এনে দেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রিমিয়াম ভ্রমণের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রিমিয়াম শ্রেণির যাত্রী সংখ্যা প্রায় ১১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১ কোটি ৬৯ লাখে পৌঁছেছে।
এই বাজার ধরতে একের পর এক বিলাসবহুল কেবিন চালু করছে এয়ারলাইনসগুলো। এয়ার ফ্রান্স তাদের নতুন ‘লা প্রিমিয়ার’ স্যুইটে ব্যক্তিগত পোশাক রাখার স্থান ও পূর্ণদৈর্ঘ্যের বিছানার ব্যবস্থা করেছে। অন্যদিকে জার্মান এয়ারলাইন লুফথানসা কয়েক বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে তৈরি করেছে নতুন ‘অ্যালেগ্রিস’ ফার্স্ট ক্লাস কেবিন।
বর্তমানে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে ব্যক্তিগত বাথরুমসহ একমাত্র ফার্স্ট ক্লাস স্যুইট হিসেবে বিবেচিত হয় ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ‘দ্য রেসিডেন্স’। এতে শয়নকক্ষ, বসার ঘর ও ব্যক্তিগত বাথরুমসহ তিন কক্ষের একটি উড়ন্ত অ্যাপার্টমেন্টের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন যাত্রীরা।
এদিকে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস সম্প্রতি তাদের এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ এর জন্য ভবিষ্যৎ ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের একটি ধারণা প্রকাশ করেছে। এতে দুই যাত্রীর জন্য বিশাল ‘মাস্টার স্যুইট’, ডাবল বেড, ড্রেসিং এরিয়া, ব্যক্তিগত বার এবং সংযুক্ত বাথরুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এয়ারবাসের কেবিন মার্কেটিং প্রধান ইঙ্গো উগেটজার বলেন, “বর্তমানে ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’। সেই লক্ষ্যেই ভবিষ্যতের কেবিন নকশা তৈরি করা হচ্ছে”।
যদিও এখনও এসব পরিকল্পনা ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে, তবে এয়ারবাস জানিয়েছে, তাদের এ৩৫০ উড়োজাহাজের জন্য ইতোমধ্যে ১০টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের অর্ডার দিয়েছে এবং আরও কয়েকটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৩০ সালের দিকে নতুন প্রজন্মের এই বিলাসবহুল কেবিন যাত্রীসেবায় যুক্ত হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন