চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ২৩:০০ পিএম
চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন: সব পদে জয়ী ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্রার্থীরা।
শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের সব প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এরমধ্যে ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ১৮ জন। বাকি ছয়জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন শেষে শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম।
চেম্বার থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনে সরাসরি ভোটে অর্ডিনারি গ্রপের ১২ জন এবং অ্যাসোসিয়েট গ্রপে ৬ জন নির্বাচিত হন। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনী বোর্ড সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণিতে মোট ভোটার রয়েছেন চার হাজার ১ জন। এরমধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে ১ হাজার ৮৪৩টি। যা মোট ভোটের প্রায় ৪৬ শতাংশ। সহযোগী শ্রেণিতে ভোটার দুই হাজার ৭৬৪ জন। এর মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে ৮৮২টি। যা মোট ভোটের প্রায় ৩২ শতাংশ।
নির্বাচনে অর্ডিনারি গ্রুপ থেকে কামাল মোস্তফা চৌধুরী ১ হাজার ৪০৫ ভোট, এএসএম ইসমাইল খান ১ হাজার ৩৭৪, আবু হায়দার চৌধুরী ১ হাজার ৩৬৪, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী ১ হাজার ৩৫২, নাসির উদ্দিন চৌধুরী ১ হাজার ৩২১, আসাদ ইফতেখার ১ হাজার ৩০৬, আমান উল্লা আল ছগির ১ হাজার ২৭৭, মো. গোলাম সরওয়ার ১ হাজার ২৫৯, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১ হাজার ২৫৯, মোহাম্মদ শফিউল আলম ১ হাজার ২৪৯ এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ১ হাজার ২১১ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েট গ্রপে মো. জাহিদুল হাসান ৬৮৭ ভোট, মো. নুরুল ইসলাম ৬৬১ ভোট, মো. সেলিম নুর ৬৪৬, সরোয়ার আলম খান ৬৪১, মোহাম্মদ মশিউল আলম ৬৩২ এবং মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ ৬১৮ ভোট পেয়ে এই শ্রেণি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে মোহাম্মদ আখতার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং এস এম সাইফুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে আফসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন এবং মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নবাজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে শনিবার (২৩ মে) সকাল ৯টায় নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় ভোট গ্রহন শুরু হয়। এরপর বিরতিহীনভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ এক যুগ পর চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সর্বশেষ চেম্বারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। এরপর সমঝোতার ভিত্তিতে সিলেকশনের মাধ্যমে বারবার কমিটি গঠন হলেও আর ভোট হয়নি।
এবার নির্বাচনে এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম এবং বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নামের দুটি প্যানেল ঘোষণা করা হলেও শুক্রবার (২২ মে) সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নিবার্চন বর্জনের ঘোষণা দেন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতা এস এম নুরুল হক। চেম্বারের এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে প্যানেলটি সরে দাঁড়ালেও ভোটের ব্যালটে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের সব প্রার্থীর নাম ও ব্যালট নম্বর রয়ে গেছে।
তফসিল অনুযায়ী অর্ডিনারি মেম্বার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট মেম্বার ৬ জন, ট্রেড গ্রুপে ৩ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ৩ জন পরিচালক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩ জন করে ৬ জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে আছেন।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণি থেকে এবার ৩৭ জন নির্বাচন করছেন। দুই প্যানেলের ২৪ জন ছাড়া আরও ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। অন্যদিকে সহযোগী শ্রেণিতে নির্বাচন করছেন ১৫ জন। দুই প্যানেলের ১২ জন ছাড়া ছিলেন ৩ জন স্বতন্ত্র।