আহমেদ তোফায়েল
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ১১:৫৮ এএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬ ১২:০০ পিএম
অনাবাসী বাংলাদেশিরা দেশে তাদের অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন। প্রতীকী ছবি
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। এর আওতায় অনাবাসী বাংলাদেশিরা দেশে তাদের অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন। এই বিনিয়োগের অর্থের উৎস নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কোনো প্রশ্ন তুলবে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে প্রবাসীরা এই সুযোগ ব্যবহার করে আবাসন খাতে কোনো বিনিয়োগ করতে পারবেন না। সৌরবিদ্যুৎ এবং কর্মসংস্থান তৈরি করে এমন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রবাসীদের এই অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।
কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক প্রবাসী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কিন্তু দীর্ঘ সময় দেশে না থাকার কারণে তাদের আয়কর ফাইলে সঠিকভাবে প্রদর্শিত হয় না। বর্তমান আইন অনুযায়ী, প্রবাসীদের বাংলাদেশে অর্জিত আয়ের ওপর কর দিতে হয়। একই সঙ্গে তাদের বিদেশের সম্পদও কর রিটার্নে উল্লেখ করার নিয়ম রয়েছে। নতুন এই সুবিধাটি ২০২৬ সালের অর্থবিলের মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রবাসীদের জন্য নেওয়া এই কর মওকুফ সুবিধার কার্যকারিতা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবাসীরা বর্তমানে বৈধ চ্যানেলে করমুক্ত রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। ফলে নতুন এই উদ্যোগ বড় কোনো তহবিল আকর্ষণ করতে পারবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে ২০২৩ অর্থবছরে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বিদেশে থাকা সম্পদ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া সেই সুযোগ কেউ গ্রহণ করেনি। তবে কর কর্মকর্তাদের আশা, ২০২০ সালে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগে যেমন ভালো সাড়া মিলেছিল, এবারও তেমন হতে পারে। ২০২১ অর্থবছরে এই খাতের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা মূল অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছিল। সেখান থেকে সরকার প্রায় ১ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা কর রাজস্ব পেয়েছিল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নানা ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে না পারে, তবে বড় অঙ্কের পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। তাই অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সচল করতে এবং পাচার হওয়া অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরিয়ে আনতে এই আইনি সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে নীতি-নির্ধারকরা।
একই সঙ্গে বাজেটে দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই অগ্রিম আয়করের হার ৫ শতাংশ। ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় কর সমন্বয় করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তত ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ মুনাফা করতে হয়। এটি এক ধরনের দ্বৈত কর ব্যবস্থা, যা ব্যবসার খরচ বাড়ায় এবং নগদ টাকার প্রবাহে চাপ তৈরি করে। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) পক্ষ থেকেও এই ব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়েছে। এর বাইরে বিনিয়োগ-নিবিড় কিছু খাতের জন্য আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থায়ী কর অবকাশ সুবিধার কথাও ভাবছে সরকার।