রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ
রাজু আহমেদ, রাজশাহী ও মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ১০:৪৪ এএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬ ১৫:৩১ পিএম
রংপুরের মিঠাপুকুরে বাগানে হাড়িভাঙ্গা আমের পরিচর্যা করছেন এক চাষি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাজশাহীতে উৎপাদিত আমের সুনাম দেশজুড়ে। এ বিভাগের আমবাণিজ্য এবার ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে ধারণা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে ঈদের কারণে এবার আমের দাম নিয়ে শঙ্কিত বাগান মালিকরা। এ অবস্থায় আম রপ্তানির দিকে জোর দেওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। অপরদিকে মধ্য জুনে বাজারে আসছে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম। সুস্বাদু, মিষ্টি ও আঁশহীন এ আমকে নিরোগ রাখতে পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। রংপুরের জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আমে এ বছর দেড়শ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।
রাজশাহী বিভাগ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোরে আমের উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। চলতি মৌসুমে নাটোরে ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন। এবার জেলায় আমবাণিজ্য ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। নওগাঁয় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টরে আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টন। কৃষি বিভাগের ধারণা, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আমবাণিজ্য হতে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ টন। এছাড়া রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টরে উৎপাদিত আমের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৭৮০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চাষি শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন, আম দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করি। তবে রাজশাহীতে মাঙ্গো ট্রিটমেন্ট প্লান্ট না থাকায় রপ্তানি করতে হলে আগে সেই আম ঢাকায় পাঠাতে হয়। সেখান থেকে ট্রিটমেন্ট হয়ে বিদেশে পাঠাতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
রাজশাহী বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. সাবিনা বেগম বলেন, এবার বিভাগের জেলাগুলোতে মোট ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ টন। প্রতি কেজি ৫৬ টাকা ধরলে মূল্য দঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।
অপরদিকে মধ্য জুনে বাজারে আসছে রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম। বর্তমানে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। এবার অতিবৃষ্টি ও ঝড়ে কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন নিয়ে খুশি তারা। কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী ১৫ জুন থেকে বাজারে পাওয়া যাবে হাঁড়িভাঙ্গা। রংপুরের জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আমে এ বছর দেড়শ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। নির্ধারিত সময়ের আগে হাঁড়িভাঙ্গা আম বাজারজাতকরণ বন্ধে প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চাষিরা।
জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার আখিরারহাটের চাষি আবু ইলাইস বলেন, গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল, সেই পরিমাণ আম নেই। ঘন ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে আমের রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এখনও যে পরিমাণ আম গাছে রয়েছে, এতে আমরা সন্তুষ্ট। এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো দামে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, ১৫ জুন থেকে আম বাজারে আসবে। তাই ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা ১৫ জুনের পর থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনলে প্রতারিত হবেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বাগানে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গার চাষ হয়েছে ১ হাজার ৯১৫ হেক্টরে। আগামী ১৫ জুন এই আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা প্রশাসন ও চাষিদের নিয়ে সভা করেছে। এতে বাজারে অপরিপক্ব আম বিক্রি ঠেকাতে কঠোর মনিটরিংয়ের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাঁড়িভাঙ্গাসহ অন্যান্য আম নিরাপদ করাসহ গুণগত মান বজায় রাখতে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সংগ্রহের জন্য আমের ক্যালেন্ডার তৈরি করা হয়েছে। চাষিরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গাছ থেকে আম সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করছেন।