× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিত্যপণ্যের উৎসে কর দ্বিগুণ করার পথে এনবিআর

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এক নতুন ধাপে পা রাখতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।  গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এক নতুন ধাপে পা রাখতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এক নতুন ধাপে পা রাখতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটি বর্তমানে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল ও ফলসহ ২৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি ও খাদ্যপণ্যের স্থানীয় সরবরাহের ওপর উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এই প্রস্তুতির বিষয়টি জানা গেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং সরকারি অনুমোদন পেলে তা আসন্ন জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

মূলত স্থানীয় পর্যায়ে যেসব কৃষি ও খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়, সেগুলোর ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার দ্বিগুণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এনবিআরের তালিকায় থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, মরিচ, হলুদ, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেলের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া খেজুর, দারুচিনি, এলাচ ও তেজপাতার মতো মসলা এবং সব ধরনের ফলকেও এই করবৃদ্ধির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের ওপর করের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরেই অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বশেষ বাজেটে এই কর কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। অথচ এর আগের অর্থবছরে এলসি বা এলসি-বিহীন সরবরাহের ক্ষেত্রে এই হার ২ শতাংশ পর্যন্ত তোলা হয়েছিল, যা পরে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়। বারবার এমন পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়ীরা নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

কর বাড়লে খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু মনে করেন, উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে করবৃদ্ধি পাওয়া মানেই হলো পণ্যের খরচ বেড়ে যাওয়া। তিনি যুক্তি দেন যে, সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া করের টাকা সহজে সমন্বয় বা ফেরত পাওয়া যায় না। ফলে কোম্পানিগুলো এই করকে ‘খরচ’ হিসেবে ধরে পণ্যের দামের ওপর সমন্বয় করে ফেলে, যার চূড়ান্ত বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতার কাঁধে। এদিকে তিন বছর ধরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের আশপাশে অবস্থান করছেÑ এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের ওপর নতুন এই কর চাপ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন। তাদের মতো কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনেই বিল পরিশোধের সময় উৎসে কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন হার নির্ধারণ করা হলে তারা সেই নিয়ম অনুসরণ করবে। এদিকে এনবিআরের একজন কর্মকর্তার প্রাক্কলন অনুযায়ী, সঠিকভাবে এই খাত থেকে কর আদায় নিশ্চিত করা গেলে বছরে ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হতে পারে।

তবে এনবিআরের বর্তমান নেতৃত্বের পুরনো অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান ২০২৩ সালে যখন ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর সভাপতি ছিলেন, তখন তিনি নিজেই প্রাক-বাজেট আলোচনায় কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎসে করের আওতার বাইরে রাখার সুপারিশ করেছিলেন। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা এড়াতে তিনি ওই সময় জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। এখন সেই একই ব্যক্তি এনবিআরের দায়িত্বে থেকে ঠিক বিপরীতমুখী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন কেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নীতিগত বিতর্ক।

সব মিলিয়ে একদিকে রাজস্ব সংগ্রহের কঠোর লক্ষ্যমাত্রা, আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাÑ এই দুইয়ের টানাপড়েনে এনবিআরের প্রস্তাবটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। মূল্যস্ফীতির এই দুর্দিনে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি পাওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বাজারের স্থিতিশীলতা ও মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। নীতিপ্রণেতাদের উচিত হবে রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি জনস্বার্থ ও নিত্যপণ্যের দামের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা