× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্রামীণ উদ্যোক্তারা ঋণ পাবেন ৫ শতাংশ সুদে

আহমেদ তোফায়েল

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬ ০৮:৩৮ এএম

আপডেট : ১২ মে ২০২৬ ০৮:৪৭ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

দেশের গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্প খাতকে পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে গঠিত ৫ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ (জিটিএফ) থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে কেবল গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পের বিকাশে। এই তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা মাত্র ৫ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা পাবেন।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই তহবিল থেকে গ্রামীণ ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা তাদের কারখানার জন্য পরিবেশবান্ধব মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ কেনা বা আমদানির বিপরীতে ঋণ নিতে পারবেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ পুনঃব্যবহারের (রিসাইক্লিং) মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো এই ঋণের আওতায় অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া কারখানার কাজের পরিবেশ উন্নয়নেও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

ঋণের সুদের হারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ১ শতাংশ সুদে এই পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৫ শতাংশ। প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ঋণের মেয়াদ হবে ২ থেকে ৫ বছর। ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড বা রেয়াতকাল সুবিধা পাবেন। তবে কোনো একক উদ্যোক্তা এই তহবিল থেকে ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ পাবেন না। মোট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাকে অন্তত ২০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে, বাকি ৮০ শতাংশ ব্যাংকঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগবে। তবে ঋণের অপব্যবহার রোধে কঠোর শর্তও জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণখেলাপি এই সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি, যেসব প্রকল্পের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি (যেমন সৌরবিদ্যুৎ) থেকে মেটানো হবে, কেবল তারাই এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

তহবিলটি ব্যবহারের জন্য আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে। তবে যেসব ব্যাংক ইতোমধ্যে জিটিএফের আওতায় চুক্তিবদ্ধ আছে, তাদের নতুন করে চুক্তির প্রয়োজন হবে না। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে থাকলেই কেবল তারা এই তহবিল থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য এমন কোনো শর্ত রাখা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই ঋণ বিতরণের পর ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। যদি কোনো ব্যাংক ভুল তথ্য দিয়ে এই সুবিধা নেয় বা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপর বাড়তি ৩ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর ঋণের ব্যবহার ও আদায়ের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা