চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ২১:৫৯ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথমবারের মতো ‘বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ’ উদযাপন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্নত করার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত পালন করছে ‘বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’। রবিবার (১০ মে) সকাল বন্দর ভবন প্রাঙ্গনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বাধন করা হয়।
বেলুন উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবক এর সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান।
উদ্বোধনের পর বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। এবছরের ‘বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’এর প্রতিপাদ্য: ‘নিরাপদ বন্দর, সমৃদ্ধ দেশ’।
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে সেফটি ব্রিফিং, মহড়া এবং সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে তার বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যম যেকোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত রেসপন্স জানাতে সক্ষম হন। বন্দরের ভিতরে নিরাপত্তার পাশাপাশি উক্ত নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বন্দর স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও দূর্যোগ মোকাবেলা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত মৌলিক ধারণা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সাইন এবং জরুরি নির্দেশনাসহ লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ যান চলাচল আরো নিরাপদ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, সুষ্ঠু ও নিরাপদ অপারেশনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ও সমৃদ্ধ বন্দর উপহার দেওয়া এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। শুধু স্থাপনা নয় বন্দরের প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মচারী ও অংশীজন সবার জানমাল, সম্পদ ও বন্দরের যন্ত্রপাতি সবকিছুকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসে নিরাপদ বন্দর নিশ্চিত করতে সপ্তাহ ব্যাপী “বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬” পালন করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিক নজরদারী ব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপন প্রযুক্তি এবং জরুরি রেসপন্স পরিকল্পনা জোরদার করেছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে যার ফলে যেকোন দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের উপ পরিচালক লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বন্দরের প্রাণশক্তি হলো পরিশ্রমী শ্রমিক কর্মচারীবৃন্দ । ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।