যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
বিবিসি
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬ ১৪:৪৯ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পর শুক্রবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পর শুক্রবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাদের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ইরান ‘বিনা উসকানি’তে হামলা চালায়।
এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি তাদের।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সকালের মাঝামাঝি সময়ে, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দেড় শতাংশ বেড়ে ১০১.৬০ ডলারে (৭৪.৫০ পাউন্ড) দাঁড়িয়েছে।
যদিও দিনের শুরুতে দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধির পর তা কিছুটা কমে আসে।
এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছায়।
চুক্তি না হলে ইরানকে মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্প
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে।
শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে তিনি গত ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছিলেন, বলেন ট্রাম্প।
হামলার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এবং তেহরানকে কখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না—এমন অবস্থানেই অটল রয়েছে ওয়াশিংটন।
তিনি বলেন, “আলোচনা খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে তাদের বুঝতে হবে, যদি চুক্তি না হয়, তাহলে তাদের বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমার চেয়ে তারাই এই চুক্তি বেশি চায় বলে আমি বিশ্বাস করি।”
যুদ্ধবিরতিকে এখনও ‘ভঙ্গুর’ হিসেবেই দেখছেন ব্যবসায়ীরা
অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জিয়াজিয়া ইয়াং বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পথে জ্বালানি সরবরাহ আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তেলের দাম আবার বেড়েছে।
এদিকে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি গবেষক হুইফেং চ্যাং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনা কম দেখানোর চেষ্টা করলেও ব্যবসায়ীরা যুদ্ধবিরতিকে এখনও ‘ভঙ্গুর’ হিসেবেই দেখছেন।
এ কারণে তারা সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
ট্রাম্প জানান, সর্বশেষ গোলাগুলির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার জড়িত ছিল।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরানের কয়েকটি ছোট নৌযান ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘সহজেই প্রতিহত’ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের জাহাজ, এমনকি একটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে।
এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকায় বিমান হামলাও চালানো হয়েছে।
এর জবাবে ইরানের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করেছে, দাবি ইরানের।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের কোনো জাহাজে আঘাত হানার দাবি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা এই সংঘাত আরও বাড়াতে চায় না।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, “পরিস্থিতি এখন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে”।
এদিকে ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের হামলাকে ‘সামান্য সতর্কবার্তা’ বলে মন্তব্য করেন।
এই সপ্তাহেই ট্রাম্প বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত শেষ হবে’।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার কাঠামো তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছিল ইরান। এর জেরেই তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও বেশি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।