× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিরাপদ হচ্ছে সাধারণ মানুষের আমানত

আহমেদ তোফায়েল

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ০৯:০৭ এএম

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬ ০৯:০৮ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ আমানতকারীদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’ প্রণয়ন ও গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স ডিপার্টমেন্ট’ (ডিআইডি) থেকে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিকে এই আইন অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন আইনের ফলে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি যদি কোনো কারণে অবসায়িত হয় বা দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়, তবে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার আইনি নিশ্চয়তা পাবেন। এর আগে প্রচলিত ২০০০ সালের ব্যাংক আমানত বীমা আইনকে রহিত করে বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ‘আমানত সুরক্ষা তহবিল’ নামে দুটি পৃথক তহবিল গঠিত হবে। একটি হবে ব্যাংক কোম্পানিগুলোর জন্য এবং অন্যটি হবে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর জন্য। এই আইনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আগে কেবল ব্যাংকগুলো এই ব্যবস্থার আওতায় থাকলেও এখন থেকে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকেও এই আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে সব ফাইন্যান্স কোম্পানি বাধ্যতামূলকভাবে এই সুরক্ষা ব্যবস্থার সদস্য হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত হলে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে তার পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ‘আমানত সুরক্ষা বিভাগ’ নামে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী বিভাগ গঠন করা হচ্ছে।

নতুন আইনের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি আমানতকারীর জন্য সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহক তার গচ্ছিত টাকা থেকে এই পরিমাণ অর্থ দ্রুততম সময়ে ফেরত পাবেন। তবে যদি কারও একাধিক হিসাব থাকে, তবে সব হিসাবের সমষ্টির ওপর ভিত্তি করেই এই ২ লাখ টাকার সীমা কার্যকর হবে। যৌথ হিসাবের ক্ষেত্রেও চুক্তির ভিত্তিতে বা সমহারে আমানতের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। ২ লাখ টাকার অতিরিক্ত পাওনা থাকলে অবসায়কের মাধ্যমে সম্পদ বিক্রি সাপেক্ষে তা দাবির সুযোগ পাবেন গ্রাহক।

প্রিমিয়াম ও তহবিলের উৎস

আমানত সুরক্ষা তহবিল গঠনের মূল উৎস হবে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সংগৃহীত প্রিমিয়াম। প্রতিটি নতুন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাদের পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ০.৫০ শতাংশ হারে এককালীন প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর আমানতের গড়ের ভিত্তিতে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিতে হবে। এই প্রিমিয়ামের হার নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি অর্থ কেটে নেওয়ার ক্ষমতা রাখবে এবং প্রয়োজনে জরিমানা আরোপ করবে।

কেন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এই আইন

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় কিছুটা চিড় ধরেছিল। অনেক ক্ষেত্রে অবসায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় গ্রাহকদের জমানো টাকা ফেরত পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো। নতুন আইনটি এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করবে। এই আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, অবসায়নের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে অবসায়ককে আমানতকারীদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধ করবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও তদারকি

নতুন এই আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদই এই তহবিলের ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তহবিলের অর্থ নিরাপদ বিনিয়োগের লক্ষ্যে সরকারি সিকিউরিটিজ বা সার্বভৌম বন্ডে বিনিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো সংকটে তারল্য নিশ্চিত করা যায়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা