চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৮ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
আর্থিক সক্ষমতা ঠিক থাকলে আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) প্রতি বছর একটি করে জাহাজ বহরে যুক্ত করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। তিনি বলেন, আমরা ওয়ান শিপ পলিসি গ্রহণ করেছি। এই পলিসির আওতায় বিএসসি প্রতি বছর নিজস্ব অর্থায়নে একটি করে জাহাজ কিনবে। তবে শর্ত থাকবে বাকি জাহাজগুলো পরিচালনার জন্য বিএসসির ফান্ডে সেই পরিমাণ অর্থ স্টক থাকতে হবে।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিএসসি ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সম্প্রতি বিএসসির নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি জাহাজের ক্রয় প্রক্রিয়া এবং নতুন আরও বেশ কয়েকটি জাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে বিএসসির বহরে আরো তিনটি জাহাজ যুক্ত হবে। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়নে দুটি জাহাজ কেনা হচ্ছে। বাকি একটি জাহাজ আমরা বিএসসির নিজস্ব অর্থায়নে কিনব। সরকারি অর্থায়নে ৪০ থেকে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার দুইটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ অর্জন' শীর্ষক প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির সভা গত ০২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের লক্ষ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে একটি জাহাজ কেনার প্রকল্পটি একনেকে যাবে। একনেক সভায় পাস হওয়ার পর ইনশাল্লাহ এই তিনটি জাহাজ আগামী ৬/৭ মাসের মধ্যে বিএসসির বহরে দেখতে পাবেন।
তিনি
আরও বলেন, ২০২৪ সালে যখন আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম, তখন বিএসসির বহরে জাহাজ ছিল পাঁচটা।
তখন আমাদের দেশের পতাকাবাহি জাহাজ ছিল সব মিলিয়ে ১০৭টি। তখন আমি দুটি কর্মপন্থা নির্ধারণ
করি, একটি হচ্ছে বিএসসিকে লাভজনক ধারায় নিয়ে আসতে হবে। বিএসসি তখনও লাভজনক ছিল, আমি
ঠিক করি এই লাভের অংশটা একটি তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার। আরেকটি কর্মপন্থা
ঠিক করি এটি যেহেতু মেরিটাইম সংস্থা। তাই এটিকে জাহাজ পরিচালনা করা। তাই এই দিকে জোর
দিতে হবে। সেই অনুযায়ী ম্যানেজমেন্ট আমরা এমনভাবে ডেভলপ করলাম। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আমাদের
আয় হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা। সেখানে নেট প্রফিট ছিল ২২৯ কোটি টাকা। বিএসসির ৫৩ বছরের ইতিহাসে
এটি ছিল সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। পাঁচটি জাহাজ দিয়ে ৬০০ কোটি টাকা আয় করা অনেক কষ্টসাধ্য।
কিন্তু আমরা সেটি করে দেখিয়েছি। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আমরা আয় করেছি ৮০০ কোটি টাকা। নেট
প্রফিট ৩০৬ কোটি টাকা। ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটি ছিল সর্বোচ্চ।
বাংলার
প্রগতি ও নবযাত্রা বিএসসির বহরে যুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ করার পর
যে কোনো ফোরামে গেলে আমি বিব্রত হতাম। সবাই জিজ্ঞেস করতো, ব্যক্তি মালিকানাধীন একেকটি
প্রতিষ্ঠানের হাতে ২৫ থেকে ২৬টি জাহাজ আছে। কিন্তু তোমরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হয়েও
তোমাদের বহরে মাত্র ৫ থেকে ৭টি জাহাজ। সবার এমন কথা শুনে আমরা বিএসসির বহরে নতুন জাহাজ
যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই।
কমডোর
মাহমুদুল মালেক বলেন, আমরা যখন বাংলার প্রগতি এবং নবযাত্রা জন্য টেন্ডার করি। তখন প্রগতির
৭০ শতাংশ কাজ কমপ্লিট ছিল, আর নবযাত্রার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। এগুলো হচ্ছে পুরোপুরি
ব্র্যান্ড নিউ শিপ। যেই দিন থেকে আমাদের সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি
হয়, তখন থেকে আমাদের লোক ফুলটাইম তদারকিতে ছিল। জাহাজের অবশিষ্ট কাজ বিএসসির সুপারভিশনে
শেষ করা হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজ দুটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলাচল করছে, এর মধ্যে এমভি
বাংলার প্রগতি পোল্যান্ডে এবং এমভি বাংলার নবযাত্রা সিঙ্গাপুর-এ অবস্থান করছে। জাহাজসমূহ
গড়ে দৈনিক প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা আনুমানিক ২৫ লাখ টাকায় ভাড়ায় (চার্টারে)
নিয়োজিত রয়েছে।
বিএসসির
এই সাফল্যের মধ্যেও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাহাজ দুটি কেনার ক্ষেত্রে
সামান্যতম অনিয়ম করা হয়নি। আপনারা চাইলে আমি সব কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারবো। আধুনিক
প্রযুক্তিসম্পন্ন জাহাজ দুটিতে এনইসিএ বিধিমালা অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে। এখানে গ্রিন
হাউস গ্যাস (জিএইচজি) নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। জাহাজ দুটি চীনে নির্মিত
হলেও এর প্রধান যন্ত্রপাতিসমূহ ওয়েস্টার্ন এবং জাপানি অরিজিনের। এগুলো এরোডাইনামিক
শেপ এবং ডুয়েল ফুয়েল রেট্রোফিট সম্পন্ন। যা বিএসসির অন্যান্য জাহাজের তুলনায় ৩০ থেকে
৪০ শতাংশ উন্নত এবং ব্যাপক জ্বালানি সাশ্রয়ী।
তিনি
আরও জানান, জাহাজ দুটি বহরে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক রুটে সফলভাবে বাণিজ্যিক
পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, আইভরিকোস্টসহ বিভিন্ন দেশের পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল
(পিএসসি) ও ক্লাসের প্রতিটি ইন্সপেকশনে ‘জিরো ডেফিসিয়েন্সি’ ডিক্লেয়ার করা হয়েছে।