× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ট্রাম্পের একেকটি সিদ্ধান্তে রাতারাতি মুনাফা করছেন কারা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩১ পিএম

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪৫ পিএম

ইরাকের বসরা সংলগ্ন জলসীমায় গত ১২ মার্চ দুটি বিদেশি ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত হামলার পর ইরাকি জ্বালানি তেল বহনকারী একটি বিদেশি ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছবি: রয়টার্স

ইরাকের বসরা সংলগ্ন জলসীমায় গত ১২ মার্চ দুটি বিদেশি ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত হামলার পর ইরাকি জ্বালানি তেল বহনকারী একটি বিদেশি ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার বড় বড় নীতি পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সঠিক সময়ে করা কিছু ট্রেডিং বা লেনদেন থেকে অজ্ঞাত ব্যবসায়ীরা সম্ভবত লাখ লাখ ডলার মুনাফা করেছেন। আর এই ঘটনা দেখে কিছু বিশেষজ্ঞরো বলছেন, বিভিন্ন বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং তথ্য ফাঁস হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

শুল্ক বাড়ানো, ভেনেজুয়েলা ও ইরানে অভিযান-সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বড় সিদ্ধান্তের আগে বাজারের লেনদেন নিয়ে রয়টার্সের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অন্তত চারটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই জানতেন যে কী ঘটতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লেনদেনগুলো বিভিন্ন ধরনের বাজার ও সম্পদে ঘটেছে—যেমন অপশন, কমোডিটি ফিউচার ও প্রেডিকশন।

এখানে বলে রাখা দরকার—প্রেডিকশন মার্কেট হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে মানুষ ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে বাজি ধরে বা শেয়ার কেনাবেচা করে। ফিউচার হলো ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট দামে কোনো পণ্য কেনার বা বেচার বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি। আর অপশন হলো ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট দামে পণ্য কেনা বা বেচার অধিকার, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

লেনদেনগুলোর সময় ও আকার বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো সরকারি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশন বা সিএফটিসির একজন সাবেক এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর ও ইনসাইডার ট্রেডিং নিয়ে গবেষণা করা তিনজন অধ্যাপক রয়েছেন।

ইনসাইডার ট্রেডিং হলো কোনো কোম্পানির বা সরকারের এমন কিছু গোপন তথ্য ব্যবহার করে বাজারে লেনদেন করা, যা এখনো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।

ইউসিএলএ স্কুল অফ ল-এর ইনসাইডার ট্রেডিং বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ভারস্টেইন বলেন, “এটি খুবই সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদিও উদাহরণগুলো সংখ্যায় কম, তবে এগুলো এমন এক ধরনের ছক দেখায়, যা সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের বন্ধুদের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে লেনদেন করলে সাধারণত এমন দেখা যায়।” 

সাবেক সিএফটিসি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর ও সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর আইটান গোয়েলম্যান বলেছেন, এ ধরনের লেনদেন সাধারণত নজরদারির আওতায় আসা উচিত। যদিও তিনি যোগ করেছেন, কমোডিটি বাজারের ইনসাইডার ট্রেডিং আইন বেশ জটিল এবং এখনো অনেক কিছু অস্পষ্ট।

গোয়েলম্যান বলেন, এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ, সিএফটিসি ও বিচার বিভাগ সাধারণত এ ধরনের লেনদেনকে “অস্বাভাবিক ও কৌতূহলজনক” হিসেবে দেখে থাকে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন, সরকারি নৈতিকতা নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী অপ্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে মুনাফা করতে পারেন না। তিনি একটি ইমেইল বিবৃতিতে বলেন, “প্রমাণ ছাড়াই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ ধরনের কাজে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।”

সিএফটিসির একজন মুখপাত্র বলেছেন, “সন্দেহজনক লেনদেনের” বিষয়ে সংস্থাটি নিয়মিত এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং নিজস্ব নজরদারি চালায়। তবে বাজি ধরার এই ঘটনাগুলো নিয়ে তারা কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা তিনি বলেননি।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, আর বিচার বিভাগও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

তবে এটা ঠিক যে, কিছু ব্যবসায়ী হয়তো অনেক বেশি ভাগ্যবান ছিলেন অথবা এমন কিছু লক্ষণ বুঝতে পেরেছিলেন যা বাজারের বাকিরা ধরতে পারেনি। বিশেষ করে ওয়াল স্ট্রিট ফার্মগুলো এখন ক্রমবর্ধমানভাবে সাবেক সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের ওপর নির্ভর করছে। কিছু লেনদেন হয়তো লোকসান কমানোর জন্য করা হয়েছে, যা বড় ধরনের কমোডিটি পোর্টফোলিওতে সাধারণ বিষয়।


তদারকির রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়

সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে লেনদেন করা অবৈধ বলে বিবেচিত হয়, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সেটি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু বিভিন্ন সম্পদ (অ্যাসেট) ও এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে এ আইন কার্যকর করার রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কমোডিটি ও ডেরিভেটিভস (আর্থিক চুক্তি) বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং নিষিদ্ধ, তবুও এ ধরনের বাজারে মামলা করার নজির খুব কম। প্রেডিকশন মার্কেটের ওপর নজরদারির বিষয়টিও এখনো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা সিকিউরিটিজ বাজারের জালিয়াতি যেমন ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের দিকে নজর দেবেন। তবে অনেক আইনজীবী ও বিনিয়োগকারী মনে করেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।

ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্সের প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ সোসনিক বলেন, এই লেনদেনের সঙ্গে এসইসি, সিএফটিসি ও প্রেডিকশন মার্কেটের মতো বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয় জড়িত, যেখানে আইনি ভিত্তি বেশ অস্পষ্ট। সোসনিক বলেন, “যদি এটি একজন ব্যক্তি বা একদল সহযোগী মিলে করে থাকে, তবে এর মূল রহস্য বের করতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। কিন্তু আমরা তেমন কিছুর কোনো প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি না।”

সোসনিক আরও বলেন, সম্প্রতি এসইসির এনফোর্সমেন্ট প্রধানের পদত্যাগ এবং বিভিন্ন হতাশার খবরের কারণে “নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে এটি খুব একটা অগ্রাধিকার পাবে বলে মনে হয় না।”

সময় বুঝে লেনদেন

রয়টার্সের পর্যালোচনায় চারটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা পাওয়া গেছে যেখানে লেনদেনের সময়টি বেশ চোখে পড়ার মতো ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প তার ঢালাও শুল্ক স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে অপশন ট্রেডাররা লাখ লাখ ডলারের বাজি ধরেন, যার ফলে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ইনডেক্স ৯.৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

গত জানুয়ারি মাসে অজ্ঞাত এক পলিমার্কেট (বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় বিকেন্দ্রীভূত প্রেডিকশন মার্কেট) ব্যবহারকারী ওই মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির ওপর বাজি ধরে ৪ লাখ ডলারেরও বেশি জিতে নেন। অ্যাকাউন্টটি আগের মাসে তৈরি করা হয়েছিল এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করবে কি না, তা নিয়ে ৩০ হাজার ডলারেরও বেশি বাজি ধরা হয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর আগে পলিমার্কেট ও কালশির মতো প্রেডিকশন মার্কেটে ধরা বাজিগুলো ইনসাইডার ট্রেডিং ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘বাবলম্যাপস’ ছয়টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে যারা পলিমার্কেট থেকে সম্মিলিতভাবে ১২ লাখ ডলার মুনাফা করেছে; খামেনির ওপর হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে অর্থ জমা করা হয়েছিল।

সম্প্রতি ট্রাম্প যখন ইরানের জ্বালানি সম্পদে হামলা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন, তার ঠিক কয়েক মিনিট আগে অজ্ঞাত ব্যবসায়ীরা তেলের ওপর ৫০ কোটি ডলারের বাজি ধরেন এবং তেলের দাম দ্রুত পড়ে যায়। এই বাজিগুলো নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে ধরা হয়েছিল। 


বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেরিডেটিভ মার্কেটপ্লেস সিএমইর একজন মুখপাত্র তেলের ফিউচার ট্রেড নিয়ে বা তারা এটি খতিয়ে দেখছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মার্চের শুরুতে কালশি ও পলিমার্কেট উভয়ই তাদের প্ল্যাটফর্মে ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধ করতে নতুন নিয়ম চালু করেছে। কালশির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন। তিনি আরও বলেন, ২৩ মার্চের তেল ফিউচারের মতো বড় অঙ্কের লেনদেন যদি কালশির প্ল্যাটফর্মে হতো, তবে তা দ্রুত শনাক্ত করা যেত।

নিউইয়র্কভিত্তিক পলিমার্কেটের প্রধান আইনি কর্মকর্তা নীল কুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পলিমার্কেট তাদের প্ল্যাটফর্মের সব লেনদেন রিয়েল-টাইমে নজরদারি করে এবং সন্দেহজনক লেনদেন বন্ধ করার জন্য তাদের কাছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাজির বিশাল আকার ও এর ধরন দেখে মনে হচ্ছে, অনেকের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল। সোমবারের ৫০ কোটি ডলারের তেলের বাজার লেনদেন অত্যন্ত দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও প্রচুর অর্থের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

এসইসির নিউইয়র্ক অফিসের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সাবেক সহ-প্রধান ডেভিড রোজেনফেল্ড বলেন, “যখন আপনি নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার ওপর এ ধরনের বাজি ধরেন, তখন এটি প্রবল সন্দেহ তৈরি করে যে কারো কাছে অবশ্যই নির্দিষ্ট কোনো অভ্যন্তরীণ তথ্য ছিল।” 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা