চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ২১:০২ পিএম
ঈদের ছুটির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ছুটি চলাকালে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে বন্দরে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। একই সময়ে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৫৪ হাজার ৮৯৮ একক।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ‘ঈদের ছুটির সময়েও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম থমকে থাকেনি। ছুটির মাঝে ঈদের দিন ২১ মার্চ কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও পরবর্তী দুই দিনেই (২২ ও ২৩ মার্চ) জাহাজ ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।’
সচিব জানান, ঈদের ছুটির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের অপারেশনাল কার্যক্রম চালু রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। রমজানে এবং ঈদ ছুটিকালীন সময়ে জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং তদারকির করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়Ñ যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি সাইড এবং বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস তদারকি ও পর্যবেক্ষণ নিবিড়ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ভেতরে জ্বালানি তেলবাহী ও অন্যান্য পণ্য বহনকারী জাহাজ যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে আগমন, খালাস ও প্রস্থান করতে পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করার কারণে ঈদের ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে বন্দরে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানিকৃত পণ্য ছিল ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ টন এবং রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ টন। ছুটিকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৮ই মার্চ। ওই দিন একদিনে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়। অন্যদিকে একই সময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৫৪ হাজার ৮৯৮ একক। এর মধ্যে আমদানিকৃত কন্টেইনার ছিল ২৮ হাজার ৯৬১ একক এবং রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার ছিল ২৫ হাজার ৯৩৭ একক। তবে একদিনে সবচেয়ে বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৮ মার্চ। ওই দিন ১১ হাজার ৮৬১ একক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। একই সময়ে ৬৪টি জাহাজ বন্দরে হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয় এবং ছুটির আমেজ কাটিয়ে ২৩ মার্চ পুনরায় ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ মার্চ বন্দরের ৫৯ হাজার একক কন্টেইনার ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৪৩ হাজার ২০০ একক কন্টেইনার অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩ একক এফসিএল কন্টেইনার, ২ হাজার ৬৫৪ একক ডিপো কন্টেইনার এবং ১ হাজার ৬৫২ একক খালি কন্টেইনার রয়েছে। এ ছাড়া আইসিডি কমলাপুরগামী ৫১২ একক কন্টেইনার বর্তমানে বন্দরে অবস্থানের তালিকায় রয়েছে। পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও গতিশীলতা বজায় রয়েছে।