বাসস
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:১০ পিএম
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩০ পিএম
বিমানে জেট ফুয়েল নিচ্ছেন একজন কর্মী। ছবি: জেট এভিয়েশন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে নতুন দর কার্যকর হবে আজ রাত ১২টা থেকে। চলতি মার্চ মাসেই এটি জেট ফুয়েলের দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য শুল্ক ও মূসকসহ প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা, যা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক রুটেও লিটারে ৭১ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল)-এর প্রস্তাব, গণশুনানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্ল্যাটসের গড় দর, ডলার বিনিময় হার ও এলসি সেটেলমেন্ট বিবেচনায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে ৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ০.৬২ ডলার থেকে ০.৭৩৮৪ ডলার করা হয়েছিল। ১৯ মার্চ আরেক দফা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েও তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪ (৪) ও ৩৪ (৬) অনুযায়ী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (পিওসিএল) প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি গ্রহণসহ বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিইআরসির গত বছরের ১৩ মে জারিকৃত আদেশ নম্বর : ২০২৫/০৮ এর অনুচ্ছেদ ৯ দশমিক ২ অনুযায়ী গত ৫-২২ মার্চ সময়ে জেট ফুয়েলের প্রকাশিত প্লাটস রেটের গড়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলম্যান্ট বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে এই মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে এশিয়ায় জেট ফুয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৬৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।