× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণতের দাবি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৪ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের ১২ জন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এ দাবি জানান অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. নাজমা বেগম, ড. সেলিম রায়হান, ড. মাসুদা ইয়াসমিন, ড. রুমানা হক, ড. অতনু রব্বানী, ড. শাফিউন নাহিন শিমুল, অধ্যাপক জাহিদুল কাইয়ুম, এসএম আব্দুল্লাহ, ড. সুজানা করিম, নাজমুল হুসাইন ও সেলিনা সিদ্দিকা।

বিবৃতিতে বলা হয়, “দেশে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয় এবং ২০১৩ সালে তা সংশোধন করা হয়। তবে দুই দশকের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতায় আইনটির কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। ফলে আইনটিকে আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে পুনঃসংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সময়ের প্রেক্ষাপটে আইনকে আরও শক্তিশালী করার এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে”।

তারা বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেছে। জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার স্বার্থে এই অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে পরিণত করা জরুরি”।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অর্থনীতিবিদরা”।

তারা অভিযোগ করেন, “অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ ব্যাহত করতে সিগারেট কোম্পানিগুলো বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দাবি করছে, তামাক নিয়ন্ত্রণ কঠোর হলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি তামাক কোম্পানিগুলোর পুরোনো কৌশল, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে”।

বিবৃতিতে বলা হয়, “বাস্তবে তামাক নিয়ন্ত্রণের পরও তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও করহার বৃদ্ধি পেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ে। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের বছর এ খাত থেকে রাজস্ব আয় ছিল ২ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা, যা পরবর্তী অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৫১ কোটি টাকায়। একইভাবে ২০১৩ সালে আইন সংশোধনের সময় রাজস্ব আয় ছিল ১০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকায়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪০ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। গত দুই দশকে এই খাত থেকে রাজস্ব আয় প্রায় ১৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে”।

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, “টোব্যাকো এটলাসের তথ্য অনুযায়ী দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বছরে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৬১ হাজার শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন, “২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ব্যয় ছিল প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ৭৩ হাজার কোটি টাকাই তামাকজনিত স্বাস্থ্য ব্যয়। একই সময়ে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা, যা তামাকজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতির অর্ধেকেরও কম। তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ছে”।

এ পরিস্থিতিতে সরকার জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ আরও শক্তিশালী করে আইনে পরিণত করবে বলে প্রত্যাশা করেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি আইনে সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি বন্ধ এবং তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির জন্য আলাদা লাইসেন্স গ্রহণের বিধান যুক্ত করার দাবি জানান তারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা