প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ ২২:৪৯ পিএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৫ এএম
দ্বিগুণ দামে দক্ষিণ দুই দেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবে এক কার্গো এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসবে দুই কার্গো এলএনজি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বাড়তি দামে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হলো সরকারকে।
বুধবার (১১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকের নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি-১০৫ (৩) (ক)-অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এই এলএনজি আনা হবে। চলতি বছরের ৫-৬ এপ্রিল এক কার্গো, ৯-১০ এপ্রিল এক কার্গো এবং ১২-১৩ এপ্রিল আর এক কার্গো এলএনজি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিন কার্গো এলএনজির মধ্যে যুক্তরাজ্যের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকা দিয়ে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর মূল্য ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৮ ডলার।
গত বছরের ৯ ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের এ প্রতিষ্ঠান থেকে এক কার্গো এলএনজি ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয় ১০ দশমিক ৩৭ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ আগের থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে এবার যুক্তরাজ্যের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
শুধু যুক্তরাজ্যের এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে নয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও এলএনজি আনতে দ্বিগুণের বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে একটি লটে এক কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ ডলার।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রতিষ্ঠান থেকেই আর এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই এক কার্গো এলএনজির মূল্য ধরা হয়েছে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর মূল্য ধরা হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ ডলার। অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও এলএনজি আনতে গত ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবে ৪ লটে ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১১টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে ৪টি লটে ৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবে ৫টি লটে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৭০ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই তেল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১১টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ লাখ লিটার করে তেল কেনা হবে।