প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬ ২০:৪০ পিএম
দেশের শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন আগামী ৯ মার্চের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে আগামী ১২ মার্চের মধ্যে ঈদুল ফিতরের বোনাস দেওয়ারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এমন নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সঞ্চালনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।
সভায় শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের তালিকায় থাকা ৯ হাজার ৪০৩টি কারখানার মধ্যে গত বছর কোরবানি ঈদের সময় ২৮৭টি তৈরি পোশাক কারখানা বকেয়া বেতন দিতে পারেনি। চলতি বছরেও বেতন-বোনাস পরিশোধ না হওয়ার আশঙ্কায় থাকা ১৮০টি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রম অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
শিল্প পুলিশ আরও জানায়, দেশের ৭৪৭টি কারখানা গত জানুয়ারি মাসের বেতন দিতে পারেনি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানা ৩৫৭টি। আর ১৪৯টি কারখানার নভেম্বর-ডিসেম্বরের বেতন বকেয়া রয়েছে।
এ সময় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা ঈদের আগেই তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে মার্চ মাসের সম্পূর্ণ বা অর্ধেক আগাম বেতন দেওয়ার দাবি জানান তারা। সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ছুটি দেওয়ার অনুরোধও করেন তারা। শ্রমিকপক্ষে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও যেন শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে না হয়। বেতন ঠিক সময়ে দিলেই শ্রমিকদের আর রাস্তায় নামতে হবে না।
অনুষ্ঠানে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সর্বশেষ ৭ মাস ধরে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কমেছে। গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি মাসের বেতনই অনেক মালিক দিতে পারেননি। এতে বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। এ অবস্থায় মার্চ মাসের ১৫ দিনের বেতন দেওয়ার দাবি অবাস্তব।
সবার বক্তব্য শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী ৭ কর্মদিবসের (৯ মার্চ) মধ্যে যেন শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়ে দেওয়া হয়। আর ঈদের বোনাস যেন ১২ মার্চের মধ্যে দেওয়া হয়। আর মালিক-শ্রমিক আলোচনার ভিত্তিতে কোনো কারখানা চাইলে মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন দিতে পারে। তবে সেটি কারখানার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া শ্রম আইন অনুসারে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটির বিষয়টি ঠিক করবে।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে, যেন ঈদের সময় জনভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। ঈদের আগে-পরে প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের কোনো কারণ ছাড়া লে-অফ বা ছাঁটাই করা যাবে না।
ঈদের সময় পরিবহনে ভাড়া যাতে অতিরিক্ত না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার কাজ করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।