× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যবসায়িদের অভিযোগ

প্রতি ট্রাকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩২ পিএম

প্রতি ট্রাকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে চাঁদাবাজিকে দায়ি করেছেন ব্যবসায়িরা। তাদের দাবি, সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ট্রাকে পণ্য আনতে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। নানা তহবিলের নামে এসব চাঁদা আদায় করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ব্যবসা সহজীকরণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তোলেন ব্যবসায়িরা। 

সভায় বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ট্রাকে পণ্য আনতে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিভিন্ন অলিখিত খাতে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, ড্রাইভার কল্যাণ তহবিল, মানবিক তহবিল- নানা নামে এসব টাকা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি একটি অদৃশ্য ব্যয়ের মতো। এটি হাতে ধরা যায় না। তবে এর প্রভাব বড়। কিছুদিন আগে শ্যামবাজার পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন সরকারি এক কর্মকর্তা। সেখানে পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের পার্থক্য কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আমরা বলছি, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু এই পার্থক্যের কারণ কী? এর দায় কে নেবে?’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

সভায় বাংলাদেশ ক্রোকারিজ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, রোজার আগে নওগাঁ থেকে পণ্য পরিবহনে ট্রাকের ভাড়া দিতে হতো ১৪ হাজার টাকা। এখন সেই ভাড়া ৩০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি নেই। ফলে রাস্তায় আটকে থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয় আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয় ভোক্তার কাঁধে পড়ে।

বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাসেম বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে সুফল পাওয়া যাবে না। যেখানে পণ্য উৎপাদিত বা আমদানি হয়, সেখানে অভিযান চালাতে হবে।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মৌসুমে আমাদের বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়। সে সময় আমদানি করতে হয়। তখন গুটিকয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। সে সময় বাজারে একচেটিয়া সিন্ডিকেট তৈরি হয়। তখন আমদানি খরচ যদি ৪০ টাকা হয়, তারা সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি করে। তখন অভিযান চালিয়ে বলা হয়, ৪০ টাকার পণ্য কেন ১০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ আমদানিকারকের কাছে কেউ জানতে চায় না।’

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও যানজট শুধু ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের সমস্যা নয়। এগুলো সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিককে প্রভাবিত করছে। সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও দৈনন্দিন জীবনে এসব সমস্যার প্রভাব থেকে মুক্ত নন।

তিনি বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এখন সময় এসেছে সামাজিক আন্দোলন তৈরির। পুলিশ বা কোনো একটি দপ্তর একা সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। আমাদের নিজেদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। সামাজিকভাবে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।’

নিজেদের আশাবাদী হিসেবে উল্লেখ করে তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘নিরাশাবাদী হলে হবে না। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা থাকায় আমাদের আশা বেড়ে গেছে। এবার সম্ভবত আমরা সামনের দিকে ভালো কিছু দেখবো-চাঁদাবাজমুক্ত এবং উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মাধ্যমে।’

ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ব্যবসায়িক আস্থা গড়ে ওঠে বিশ্বাস, আইনের শাসন ও স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর। বিগত কয়েক বছরে নানা কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে গিয়েছিল। কঠোর মুদ্রানীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উদ্বেগ বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণকে প্রভাবিত করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা জাতীয় অর্থনীতি, ব্যবসায়ী ও ভোক্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায় এবং দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল জলিল। এ সময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের ব্যবসায়ী নেতারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা