× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কম দামি খেজুরের মূল্য চড়া

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৭ পিএম

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:০১ পিএম

নিম্নবিত্ত যে বস্তা খেজুর কেনে বেশি, তার দামও এবার একটু বেশি। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নিম্নবিত্ত যে বস্তা খেজুর কেনে বেশি, তার দামও এবার একটু বেশি। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কম দামি খেজুর হিসেবে পরিচিত জাহিদি ও বস্তা খেজুর আর কম দামে বিক্রি হচ্ছে না। রমজান সামনে রেখে এই খেজুরগুলোর দাম কেজিতে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। গত বছর রমজানের আগে যেখানে প্রতি কেজি জাহিদি খেজুর বিক্রি হয়েছিল ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, সেখানে এবার বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। 

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে জাহিদি খেজুরের দাম বেশি, তাই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। নিম্নবিত্ত যে বস্তা খেজুর কেনে বেশি, তার দামও এবার একটু বেশি। 

আমদানিকারকরা বলছেন, বন্দরে কর্মবিরতিসহ নানা কারণে এবার চাহিদা অনুযায়ী জাহিদি খেজুর আমদানি হয়নি, তাই বাজারে এই খেজুরের দাম একটু বেশি। তবে জাহিদি ছাড়া মরিয়ম, মেডজুল, আজওয়াসহ অন্যসব খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় কম বলে তারা জানান। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে খেজুর আমদানিকারক চট্টলা ডেটস’র স্বত্বাধিকারী রাশেদ কামাল মুন্না প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শুল্ক কমানোর কারণে গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে অধিকাংশ খেজুরের দাম কম। কম দামি কিছু খেজুর ছাড়া মরিয়ম, মেডজুল, আজওয়াসহ অধিকাংশ খেজুর গত বছরের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। 


জাহিদিসহ বস্তা খেজুরের দাম কেন বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার জাহিদি খেজুরের আমদানি কম হয়েছে। এসব খেজুর রমজান সামনে রেখে কয়েক দিন আগে আমদানি করা হয়। কিন্তু এবার রমজানের আগে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেটি ঠিকভাবে হয়নি। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে থাইল্যান্ড উপকূলে একটি জাহাজ ডুবে যায়, ওই জাহাজে থাকা কয়েকটি কন্টেইনারে খেজুর ছিল। এসব কারণে জাহিদি খেজুরের দাম কিছুটা বেশি।

খেজুরের অন্যতম পাইকারি বাজার নগরীর ফলমন্ডি এলাকার বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ফলমন্ডিতে প্রতি কার্টন (১০ কেজি) জাহিদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, যেখানে গত বছর এই খেজুর প্রতি কার্টন বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৯০০ টাকায়। সুপারি খেজুর প্রতি কার্টন ১ হাজার ৬০০ টাকায়। সুক্কারি খেজুর প্রতি কার্টন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। আম্বার খেজুর প্রতি কার্টন (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। 

তবে মরিয়ম, মেডজুল, আজওয়াসহ বেশি দামি খেজুরের দাম এবার গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। গত বছর রমজানের আগে ফলমন্ডিতে ভালো মানের প্রতি কার্টন (৫ কেজি) আজওয়া খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকায়, সেখানে এবার এই খেজুর প্রতি কার্টন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ভালো মানের মরিয়ম খেজুর প্রতি কার্টন বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার টাকায়, সেখানে এবার বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। সাপাবি খেজুর গত বছর প্রতি কার্টন বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা, ওই খেজুর এবার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। মাশরুক গত বছর প্রতি কার্টন বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৫০০ এবার ২ হাজার টাকায়। নাগাল গত বছর প্রতি কার্টন বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৯০০ টাকা, এবার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়।

গত বছরের তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ার কারণেই এবার বাজারে বেশি দামের অধিকাংশ খেজুরের দাম কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা। আড়তদাররা বলছেন, শুল্ক কমানোর কারণে এবার গত বছরের তুলনায় খেজুর আমদানি বেশি হয়েছে। আমদানি বেশি হওয়ায় এবার আজওয়া, মেডজুল, মাবরুমসহ ভালো মানের খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। কার্টনে (৫ কেজি) ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে দাম।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে খেজুর আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে খেজুর আমদানি বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে ১৮ হাজার ৪৩ টন খেজুর বেশি আমদানি হয়েছে। চলতি বছরের এই দেড় মাসেও আমদানি স্বাভাবিক ছিল। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে খেজুর আমদানি হয় ৭৩ হাজার ৪৮৬ টন, সেখানে ২০২৫ সালে খেজুর আমদানি হয়েছে ৯১ হাজার ৫২৯ টন। আর চলতি বছরের এই দেড় মাসে চট্টগ্রাম দিয়ে খেজুর আমদানি হয়েছে ৩৭ হাজার ৪২৫ টন। 

গত দেড় মাসে আমদানি করা খেজুর বিল অব এন্ট্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই খেজুরগুলো আমদানিতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শূন্য দশমিক ৬২ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৪ ডলার আমদানি মূল্য দেখিয়েছেন। তবে এগুলো শুল্কায়ন করা হয়েছে ২ দশমিক ২০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৭০ ডলার দামে। কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরগুলো গড় শুল্কায়ন মূল্য ২ দশমিক ৩৬ ডলার। এই খেজুরগুলো আমদানির বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২৯০ কোটি ৭৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রমজানে ভালো মানের মরিয়ম, আজওয়া, মেডজুল এসব খেজুরের চেয়ে জাহিদি, সুপারিসহ কম দামি খেজুরগুলোর চাহিদা অনেক বেশি থাকে। কারণ প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজন এই খেজুর দিয়ে ইফতার করেন। তাই এই খেজুরের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আমাদের আলাদা নজর আছে। আজকে আমরা ফলমন্ডিতে অভিযান চালিয়েছি, সেখানে আমরা দেখেছি আমদানিকারক পর্যায়ে দাম ঠিক আছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কেনার পর আড়তদাররা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তারা কার্টনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ করছেন। এরপর সবচেয়ে বেশি দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা কেজিতে ৬০/৭০ টাকা লাভ করছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা