প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৩ পিএম
মেয়াদের শেষ সময়ে এসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। টানা তিন মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ। সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে। তার আগের মাস ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। সবশেষ মূল্যস্ফীতি কমেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। তখন কিছুটা কমে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়।
মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশের অর্থ হলো ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বাজার থেকে পণ্য ও সেবা কিনতে যদি আপনার খরচ হয় ১০০ টাকা, সেই একই পণ্য ও সেবা কিনতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় আপনার খরচ বেড়েছে ৮ টাকা ৫৮ পয়সা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি সবশেষ কমেছিল গত অক্টোবরে। তখন সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। এরপর থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, ডিসেম্বরে আরও বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে এবং সবশেষ জানুয়ারি মাসে বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বাড়লেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম। বিবিএসের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জানুয়ারির ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।
মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় অবদান রেখেছে চাল, ডাল, মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, সবজি, মাছ ও মাংসসহ নিত্যপণের বাড়তি দাম।
বিবিএসের হিসাব বলছে, গত জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। টানা চার মাস ধরে বাড়ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি।
বিবিএসের তথ্যানুসারে, গত ডিসেম্বরে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
অন্যদিকে গত ডিসেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।
শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার এখনও বেশি। গেল জানুয়ারিতে গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং শহরে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে শহরে খাদ্যমূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কম ছিল আর শহরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কম ছিল। বিদায়ী বছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাজেটে তা ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নির্বাচনের পর বাড়তি চাহিদা এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে এসব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে না বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মূল্যস্ফীতি বাড়লেও জানুয়ারি মাসে সেই তুলনায় মজুরি বাড়েনি। মজুরি বৃদ্ধির সূচক বলছে, জানুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৮ শতাংশÑ যা তার আগের মাস ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে কৃষি খাতে মজুরির হার কমেছে। কৃষি খাতে জানুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। তবে শিল্প খাতে মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সেবা খাতের মজুরির হার। এ খাতে মজুরির হার ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।