হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:০১ এএম
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনায় খেলা চিঠি দিয়েছে শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষিত ধর্মঘট নিরসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য সম্মিলিত আবেদন জানিয়েছে চার শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন। গতকাল শনিবার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে খোলা চিঠি পাঠিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই আবেদন জানানো হয়। একই দিন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরোপিত ডেমারেজ চার্জ, পোর্ট চার্জ, স্টোরেজ রেন্টসহ অন্যান্য চার্জ হতে অব্যাহতি চেয়ে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।
প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেন এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের
(বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ)
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ)
সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ।
চিঠিতে বলা হয়েছে- সমগ্র জাতি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের অপেক্ষায়
প্রহর গুনছে। ঠিক তখনই চট্টগ্রাম বন্দরে একটি গভীর অচলাবস্থার উপক্রম হয়েছে। ‘চট্টগ্রাম
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ কর্তৃক রোববার থেকে ঘোষিত লাগাতার ধর্মঘট ও বহির্নোঙরে
কার্যক্রম বন্ধের ডাক আমাদের শিল্প ও বাণিজ্যে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। দুর্ভাগ্যবশত,
আস্থার সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে
আন্দোলনকারীরা বন্দরের বহির্নোঙরে বার্থিং ও পণ্য খালাস বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় পুরো বন্দর
অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
দেশের ৯৯ শতাংশ কন্টেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য এই বন্দরের
ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ সব প্রধান রপ্তানি খাত অপূরণীয়
ক্ষতির সম্মুখীন হবে। রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী
জাহাজ খালাস না হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা দ্রব্যমূল্যকে সাধারণ মানুষের
নাগালের বাইরে ঠেলে দেবে। বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থগিতের ফলে প্রতিদিন আমদানিকারকদের
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ‘ডেমারেজ চার্জ’ হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির
জন্য একটি বিশাল বোঝা। এমতাবস্থায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা
সচল রাখতে আমরা আপনার ব্যক্তিগত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ একান্তভাবে প্রার্থনা করছি।
নৌ-পরিবহন উপদেষ্টাকে বিজিএমইএর চিঠি
একই দিন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরোপিত ডেমারেজ চার্জ, পোর্ট চার্জ,
স্টোরেজ রেন্টসহ অন্যান্য চার্জ হতে অব্যাহতি চেয়ে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছেন
বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।
চিঠিতে বলা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে আপনার সাথে বিজিএমইএ’র
নেতৃবৃন্দসহ, বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতিতে সভা হয়। সভায় শ্রমিক কর্মচারী
সংগঠনের শাট ডাউন কর্মসূচির ফলে বন্দরে সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে দেশের আমদানি-রপ্তানি
কার্যক্রমে যে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। সভায়
ব্যবসায়ীগণ উক্ত সময়কালে বন্দরে কন্টেইনার জটের ফলে ডেমারেজ চার্জ, বন্দর চার্জ, স্টোরেজ
রেন্টসহ অন্যান্য বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ আরোপিত হচ্ছে মর্মে উল্লেখ করেন, যার ফলে
আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর দারুণ আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে, যা
জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর।
চিঠিতে আরও বলা হয়, উপদেষ্টা উক্ত সভায় আপনি বিজিএমইএর প্রতিনিধিসহ
উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীকে আশ্বস্ত করেন যে, সম্প্রতি শ্রমিক কর্মবিরতি শাটডাউন কর্মসূচির
কারণে সৃষ্ট ডেমারেজ চার্জ, বন্দর চার্জ, স্টোরেজ রেন্টসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট চার্জ
মওকুফের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং সকলকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে আবেদন
দাখিলের অনুরোধ করেন। আপনার উক্ত সদয় আশ্বাসের আলোকে শ্রমিক কর্মবিরতি শাটডাউন কর্মসূচির
ফলে বন্দরে আরোপিত ডেমারেজ চার্জ, বন্দর চার্জ, স্টোরেজ রেন্টসহ সকল প্রকার সংশ্লিষ্ট
চার্জ মওকুফ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।