রেলওয়ে প্রকল্প
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩২ পিএম
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি রেল ইঞ্জিন কিনে সরকার। সরবরাহ করা সব ইঞ্জিন ছিল নিম্নমানের। আর যেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল সেটার সঙ্গে পরিচিত নয় বাংলাদেশ- যার ফলে অর্ধেকের বেশি ইঞ্জিন মেরামত কারখানায় পড়ে থাকে। পাঁচটি ইঞ্জিন একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। ত্রুটিপূর্ণ এসব ইঞ্জিনের দায় ঢাকতে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে কোরিয়া। তবে এই টাকা খরচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে থাকছে না। পুরো টাকাই কোরিয়া নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করতে পারবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘অ্যাডভান্সড প্রজেক্ট অব রোলিং স্টক (ক্যারেজ) অপারেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ রেলওয়ে’ শীর্ষক প্রকল্পে এই অনুদান দেবে দেশটি। তবে পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর বাকি ৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ।
প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের রেলিং স্টক (ক্যারেজ) ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ এবং রেলওয়ের অপারেশন ও কারিগরি দক্ষতাও বাড়ানো হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পটি নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) এমএ আকমল হোসেন আজাদ। তিনি প্রকল্পটির ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রকল্প পরিচালক জানান, কোরিয়া সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কন্ট্রাকটর অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (আইসিএকে) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে। পরামর্শক ব্যয়সহ অনুদানের সম্পূর্ণ ব্যয় আইসিএকের মাধ্যমে নির্বাহ করা হবে। তবে সংগ্রহ করা যন্ত্রাংশের সিডি-ভ্যাট এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা খরচ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে করতে হবে।
কোরিয়া সরকারের ৪৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা সম্পর্কে এসপিইসি সভায় জানতে চান পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহামদ। এ সময় ইআরডির প্রতিনিধি জানান, কোরিয়া সরকারের মিনিস্ট্রি অব ল্যান্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (এমওএলআইটি) ২০২৪ সালের ৪ জুলাই অনুদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের ৬ মে ইআরডিতে রেকর্ড অব ডিসকাশনের (আরওডি) ওপর একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) অনুমোদন পেলে আরওডি স্বাক্ষর করা হবে।
সভায় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধান (রেল পরিবহন উইং) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি সরাসরি কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সরবরাহ করবে। ফলে কন্টিনজেন্সি বাবদ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে না। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বৈদেশিক প্রশিক্ষণে ইআরডি, আইএমইডি এবং পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
প্রকল্পটির গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক এসপিইসি সভায় জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে বাস্তবায়িত অন্য একটি প্রকল্পের আওতায় ২০টি ইঞ্জিন ও ১৬২টি বগি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও ২০টি বগি আসছে। সংগ্রহ করা এসব ইঞ্জিন, বায়ো টয়লেট, অটোমেটিক স্লাইডিং ডোর, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমসহ নতুন কিছু প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা বগির এসব রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত দক্ষ নন। এ পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় সংগৃহীত ২০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন এবং ১৫০টি মিটারগেজ বগির টেকসই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হলোÑ পরামর্শক সেবা গ্রহণ, ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টেস্টিং ইকুইপমেন্ট ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ)। ৩০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ১০টি এসেছে এডিবির অর্থায়নে, আর বাকি ২০টি এসেছে ইডিসিএফের অর্থায়নে।