প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১৮ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য বোঝায় কন্টেইনারগুলো পড়ে আছে। ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও মাসভিত্তিক রপ্তানি আয়ে গেল জানুয়ারিতে আগের মাস ডিসেম্বরের চেয়ে ১১.২২ শতাংশ হারে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে জানা গেছে। তারা বলছে, সাম্প্রতিক মাসিক প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইপিবির সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যয়, গেল জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৩৯৬ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
তবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৪৪১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হলেও ২০২৫ সালের একই মাসে তা ছিল ৪৪৩ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ হিসাবে অর্থমূল্য বিবেচনায় পণ্য রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ।
ইপিবি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে মোট রপ্তানি হয়েছে ২,৮৪১ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। যদিও এই অংকটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ২,৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলারের চেয়ে কম।
দেশের রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক খাত তার অবস্থান ধরে রেখেছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ২,২৯৮ কোটি ২ লাখ ডলার। এক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে।
এটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের (আরএমজি) অব্যাহত চাহিদা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ দেয় বলে মনে করছে ইপিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাত আশাব্যঞ্জক প্রবণতা দেখিয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বার্ষিক ও মাসিক উভয় ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হিমায়িত মাছের মতো প্রধান খাতগুলোতে মিশ্র ফল দেখা গেছে।
রপ্তানি গন্তব্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। এই বাজারে জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫২১ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এই সময়ে দেশটিতে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ২২ লাখ ডলার এবং ২৭৭ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোতেও জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
স্পেন, নেদারল্যান্ডস
ও গ্রেট ব্রিটেনসহ একাধিক বাজারে বিভিন্ন সময়সীমায় প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে, যা প্রধান
বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ককে পুনরায় নিশ্চিত করেছে
বলে মনে করছে ইপিবি।