প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২২ পিএম
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি খাতের অগ্রগতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা ও উদযাপনের আয়োজন হিসেবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বেসিস আইটি এক্সপোটার্স নাইট ২০২৬’।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আইটি ও আইটিইএস খাতের শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের শীর্ষ ১০টি আইটি ও আইটিইএস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করেছে বেসিস। তালিকায় রয়েছে বিআইজেআইটি লিমিটেড, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেড, উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, সেলিস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস, সেফালো বাংলাদেশ লিমিটেড, স্যামসাং আর অ্যান্ড ডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ লিমিটেড, এনোসিস সলিউশনস, থেরাপ (বিডি) লিমিটেড, রেডিয়েন্ট ডেটা সিস্টেমস লিমিটেড এবং ডেটা পাথ লিমিটেড।
বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের ১০৪টিরও বেশি দেশে সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি করছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় পাঁচশটি সদস্য কোম্পানি রপ্তানিতে যুক্ত ছিল, যার মধ্যে প্রায় তিনশটি নিয়মিত রপ্তানিকারক বলে জানিয়েছে দেশে সফটওয়্যার নির্মাতা ও আইটি সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর এই শীর্ষ সংগঠন।
অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে আইটি রপ্তানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনাও হয়। আলোচকরা নীতিনির্ধারক, আর্থিক খাত ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানের প্রথমে স্বাগত বক্তব্যে বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক বলেন, “বেসিসের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশ্ববাজারে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেয়েছে এবং দেশের আইটি শিল্প বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।”
তিনি বলেন, “বেসিস আইটি এক্সপোটার্স নাইট ২০২৬ কেবল একটি সম্মাননা অনুষ্ঠান নয়; এটি বেসিসের দীর্ঘ পথচলার একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে আমরা অতীত অর্জন স্মরণ করছি, বর্তমান বাস্তবতা অনুধাবন করছি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের জন্য একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।”
বেসিস আইটি এক্সপোটার্স নাইট ২০২৬ এর আহ্বায়ক ও বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য রওশন কামাল জেমস বলেন, “বাংলাদেশের আইটি ও আইটিইএস খাত এখন শুধু সম্ভাবনার নয়, বরং বাস্তব সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। বেসিস আইটি এক্সপোর্টার্স নাইট ২০২৬ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের শীর্ষ আইটি রপ্তানিকারকদের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা এবং তাদের সফলতার গল্প তুলে ধরে নতুন উদ্যোক্তা ও উদীয়মান প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুপ্রাণিত করা।”
তিনি বলেন, “এই আয়োজন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গঠন এবং নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংলাপ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, এনডিসি, বলেন, “বাংলাদেশের আইটি ও আইটিইএস খাত এখন দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং সরকারের সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তার ফলে এই খাত আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে নানামুখী নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে। ক্যাশ ইনসেনটিভ, কর অবকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজীকরণের মাধ্যমে আইটি রপ্তানি খাতের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বেসিস আইটি এক্সপোটার্স নাইট ২০২৬-এর মতো উদ্যোগ দেশের শীর্ষ আইটি রপ্তানিকারকদের স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুপ্রাণিত করবে এবং সরকার–বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজার সম্প্রসারণ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে আমি আশা রাখি।”
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ও বেসিস প্রশাসক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান বলেন, “মাত্র ১৮টি সদস্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে বেসিসের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এই সংগঠনের সদস্যরাই বাংলাদেশের আইটি রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। বেসিস আইটি এক্সপোর্টার্স নাইট ২০২৬ কেবল একটি উদযাপনমূলক আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি খাতের অতীত অর্জন পর্যালোচনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় ও কৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী প্ল্যাটফর্ম।”
তিনি বলেন,“ক্যাশ ইনসেনটিভ, কর অবকাশ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার—এই চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি খাত আগামী দিনে আরও টেকসই ও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, বেসরকারি খাত ও শিল্প সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পরিচালক (রপ্তানি উইং) বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের উপসচিব ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম; অপারেশনস ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও ভুটান), বিশ্বব্যাংক-এর গেইল মার্টিন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।