প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১২ পিএম
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেই সংস্কারের কথা বলেছিল সেটা তারা দেখাতে পারেনি। এই ব্যর্থতার ফলে কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে, যারা পুরনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক ছিলেন। আর এটি ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘আগামী সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেই সংস্কারের কথা বলেছিল, সেই সংস্কারকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে সক্ষমতা, অংশীজনের অংশগ্রহণ, উন্মুক্ততা দরকার, সেটি তারা দেখাতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘সংলাপের ক্ষেত্রে সরকার শুধু রাজনীতিবিদদের গুরুত্ব দিয়েছে। একটা জাতীয় উত্থান, জাতীয় জাগরণ, জাতীয় অংশগ্রহণের ভেতরে অংশীজনদের নিয়ে নতুন বন্দোবস্তের চিন্তাকে সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওনারা নতুন শক্তির কথা বলে শেষ বিচারে গিয়ে একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে গেলেন। সেজন্য ওনারা আচরণও করতে পারলেন না। ওনারা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারলেন না।’
সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওনারা কি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও করতে পারবেন কি না।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘যারা নতুন বন্দোবস্তের কারিগর হতে চেয়েছিলেন, তারা পুরনো বন্দোবস্তের অংশ হয়ে গেলেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে গেলেন এবং ব্যয়বহুল নির্বাচনের অংশ হয়ে গেলেন। বড়জোর তারা ক্রাউড ফান্ডিং করে টাকা তুললেন, কিন্তু টাকার খরচ কমানোর ক্ষেত্রে কিন্তু আর পারলেন না।
কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, যারা পুরনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক ছিল, তাদের উত্থান হয়েছে মন্তব্য করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেন, রাজনীতিবিদেরা আত্মগোপন করলেন, আর আমলারা ফিরে এলেন। কারণ এই পুরনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক্ষক হলো আমলাতন্ত্র। ওই আমলাতন্ত্র তখন আবার ফিরে এলো। আর আমলাতন্ত্রকে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা প্রতিটি পরিবারকে মাসে ৪ হাজার ৫৪০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ইউনিভার্সাল মিনিমাম ইনকাম কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানানো হয়।
প্লাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত নগদ সহায়তা কর্মসূচিটি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে দারিদ্র্যপ্রবণ ১১টি জেলার ২৮ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ৩৬টি জেলার ৮০ লাখ পরিবারকে আওতায় আনা হবে। চূড়ান্ত ধাপে দেশের মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বচ্ছতা ও সঠিক উপকারভোগী নিশ্চিত করতে প্রতি দুই বছর অন্তর পভার্টি স্কোর কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্লাটফর্মের হিসাব অনুযায়ী, ৩৬টি জেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বছরে ব্যয় হবে প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ০.৭৩ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। নীতি সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক প্লাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধুরী, শাহীন আনাম, সুলতানা কামাল প্রমুখ।