× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনমত ছাড়াই জ্বালানি-বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০২ পিএম

জনমত ছাড়াই জ্বালানি-বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা

কোনো ধরনের জনমত বা বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে দাবি করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। তারা সন্দেহ করছে কোনো বিশেষ দেশকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে এই খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৫০) নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

সেখানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে কী ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে এই সংস্থা (সিপিডি) কাজ করেছে, তা সবাই জানে। বর্তমান সরকারের সময়ে কিছুটা সহযোগিতা নিয়ে তারা কাজ করছিলেন। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে একটি খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয় সিপিডি জানে না। এটা সিপিডির জন্য একধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া, কোনো ধরনের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ধরনের একটি কাজ গোপনে শেষ করার বিষয়টি আগের সরকারের আচরণকে মনে করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিভিন্ন রকমের যে সংকট চলছে সেই সংকট সমাধানের বিষয়গুলোকেও যে বিবেচনায় নেওয়ার কথাÑ এই খসড়া প্রণয়নে তার খুবই ম্রিয়মাণ উপস্থিতি বা বলতে গেলে সেগুলো আসলে এক অর্থে অনুপস্থিত। তাহলে প্রশ্ন হলো অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র এক মাস সময়কালের আগে যখন তারা নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, কেন তাড়াহুড়া করে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ, কেন এই তোড়জোড়? এটা কি কাউকে তুষ্ট করার জন্য? কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বশর্তের অংশ হিসেবে কি এ রকম কিছু করা হচ্ছে?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কেন এ রকম একটি মহাপরিকল্পনার মিশন-ভিশনে যথাযথভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতিফলন নেই? কেন এখানে রিসোর্স অপটিমাইজেশনের নাম করে অভ্যন্তরীণ কয়লাকে ব্যবহার করার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? কেন সোলারের নাম ব্যবহার করে সোলারের বাইরে অন্যান্য যে জ্বালানি আছে, যেগুলো কার্বন নির্গমন করে, সেগুলোকে সোলারের ভেতরে যুক্ত করা হয়েছে?

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, খসড়া মহাপরিকল্পনায় ২০৫০ সালে বিদ্যুতের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। অথচ তারা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখিয়েছিলেন এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ দরকার হবে না। খসড়া মহাপরিকল্পনায় এলএনজি অবকাঠামোকে বিপুল বিনিয়োগের জন্য সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

নেপাল ও ভুটান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ আনার সুযোগ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নও খসড়া পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে ২০৪০ সালের জন্য ৫০ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নতুনভাবে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগ্রহ নেই। সিপিডি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

সিপিডি আরও জানায়, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ৭০ হাজার ৫১২ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির মধ্যে ৪৫ শতাংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি থেকে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে ২৯ শতাংশে নেমে আসবে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমানে ১৭ শতাংশ, যা ২০৫০ সালের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশে নামানো হবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আগের মহাপরিকল্পনায় এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। সেটা এই খসড়া মহাপরিকল্পনায় ধরা হয়েছে ২৭ বিলিয়ন ডলার। এ ধরনের প্ল্যান বা পলিসি ডকুমেন্ট শুধু অর্থনৈতিক ডকুমেন্ট নয়। এটা একধরনের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ডকুমেন্ট। কারণ অনেক জায়গায় সরকারকে সমঝোতা করতে হয়, ছাড় দিতে হয়। কিন্তু বৃহত্তর যে লক্ষ্য, সে জায়গা থেকে সরকার সাধারণত পিছপা হয় না। কিন্তু এই ডকুমেন্ট (খসড়া মহাপরিকল্পনা) দেখে সিপিডি মনে করছে, এটার পেছনে প্রেশার গ্রুপগুলোর প্রেশার রয়েছে। এখানে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কোনো জায়গায় ছাড় দিয়েছে বা নতজানু হয়েছে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে শিগগিরই দুটি বড় চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তি হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। উভয় দেশ থেকে জ্বালানি বিষয়ে একটা বড় ধরনের অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে বলে তাদের কাছে ইঙ্গিত আছে। সুতরাং এই ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এসব দেশের বা চুক্তিগুলোর একটি প্রভাব থাকা অমূলক নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা