× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেশে ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করার উদ্যোগ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৩ পিএম

দেশে ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করার উদ্যোগ

ক্যাশলেস লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেগুলো বাস্তবায়ন করতে সরকারের সহযোগিতা দরকার বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এজন্য কিউআর কোড ব্যবহারের লক্ষ্যে স্মার্টফোন কেনায় নগদ ভর্তুকি, ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশেষ ছাড়, নির্দিষ্ট স্মার্টফোনে ব্যবহৃত সিমের ওপর কর ও ভ্যাট কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকে উপস্থাপিত এ প্রস্তাবগুলো পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত আকারে অনুমোদন দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।

সূত্রমতে, কিউআর কোড ব্যবহার করে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ দিয়ে নগদবিহীন লেনদেন চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সেবাটি সাধারণের কাছে জনপ্রিয়তা পায়নি। প্রান্তিক পর্যায়ে স্মার্টফোন না থাকায় একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এ সেবার বাইরে থেকে যায়। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট এবং বাড়তি চার্জের জন্য অনেকে এই সেবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়; যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন গবেষণায় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এ ধারাবাহিকতায় ক্যাশলেস লেনদেন প্রসারের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে স্মার্টফোন কেনায় ভর্তুকি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে খরচ কমাতে নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার এবং মোবাইলের খরচ কমাতে কোম্পানিগুলোকে ভ্যাট ও করের একটি বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যে ভিত্তির ওপর ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গঠন করার চেষ্টা চলছে, সেই ভিত্তি যদি পুরনো গতানুগতিক হয়, সেখানে এই পরিবর্তন আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আগামী ২০২৭ সালের মধ্য নগদবিহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ নিয়ে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন বাংলাদেশ প্রচারণা চলমান। মূলত ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যেখানে লেনদেন দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে এবং আর্থিক খাতে দুর্নীতি কমবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৭ সালের মধ্যে খুচরা লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে; যা মোবাইল ফিন্যান্স সার্ভিস, ব্যাংক ও অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সমন্বয়ে একটি আন্তসংযোগ ও সাশ্রয়ী ইকোসিস্টেম তৈরির মাধ্যমে অর্জন করতে চায়। মূলত মোবাইল ফিন্যান্স অপারেটর, মাইক্রো ফিন্যান্স ইনস্টিটিউশন এবং অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারীদের একটি একক আন্তঃসংযোগ চ্যানেলের অধীনে আনার চেষ্টা চলছে। যেখানে ইন্টারঅপারেবিলিটি সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন প্লাটফর্মের (আইআইপিএস) মাধ্যমে সহজে টাকা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু বাংলা কিউআর, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট ইত্যাদির ব্যবহারে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে সকল নাগরিকের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার অভাবে তা বাস্তবে ফলাফল আশানুরূপ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে গত ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশকে ক্যাশলেস করতে প্রত্যেক নাগরিকের কাছে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছতে হবে। এজন্য বিশেষ সুবিধা লাগলে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের খুচরা লেনদেনের অন্তত ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। আর শিগগির সব সমুদ্র ও বিমানবন্দরে ২৪/৭ ‘রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেম’ বা তৎক্ষণাৎ ইলেকট্রনিক ফান্ড স্থানান্তর ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উচ্চ ইন্টারনেট খরচ, স্মার্ট ডিভাইসের অভাব, ডিজিটাল সাক্ষরতার সীমাবদ্ধতার কারণে ক্যাসলেস বাংলাদেশ গড়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার কম থাকার মতো বিষয়গুলো নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। আবার বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনেও প্রায়ই নগদ ব্যবহার করা হয়। যাতে ডকুমেন্টেশন, কর বা ব্যাংক তদারকি এড়ানো যায়। তবে ডিজিটাল ওয়ালেট, মোবাইল ব্যাংকিং এবং কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার বাড়াতে পারলে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়া সফল হবে। এ জন্য স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটে ভর্তুকি দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পেমেন্ট সিস্টেম প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ক্যাশলেস বাংলাদেশ (নগদ টাকাবিহীন) গড়ায় জোর দিলেও এখনও দেশের ৭২ শতাংশের বেশি লেনদেন হচ্ছে নগদ টাকায়। বড় অঙ্কের টাকার ক্ষেত্রে মানুষ এখনও নগদ বা চেকের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে ছোট ও মাঝারি অঙ্কের লেনদেনের জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্মের ব্যবহার বাড়ছে। আর প্রতিবছর লগদ লেনদেনে কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা অপব্যয় হয়।

২০২৩ সালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংলা কিউআর’ নামে একটি জাতীয় কিউআর কোডমানদণ্ড চালু করে খুচরা লেনদেনের জন্য। বর্তমানে এই ব্যবস্থায় ৪৩টি ব্যাংক, ৫টি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ৩টি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) যুক্ত রয়েছে। আর সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে সব ধরনের লেনদেনকে ক্যাশলেস করার লক্ষ্য নিয়েছে; যা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১’-এর চারটি ধাপ (স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার ও স্মার্ট সমাজ) বাস্তবায়ন হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও নগদভিত্তিক লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে হলে ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে। এমনকি অনেক শিক্ষিত মানুষও এখনও ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারে অনীহা দেখান। তবে একবার এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে টাকার মুদ্রণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা