প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১০ পিএম
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে আয় বাড়ছে না। পণ্যের দামের সঙ্গে পেরে উঠছে না মুনাষ। এরই মধ্যে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।
পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত বছরের একই মাসের তুলনায় গত ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা নভেম্বর ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছর ডিসেম্বরে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, তা গত ডিসেম্বরে পেতে খরচ করতে হয় ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা।
মূল্যস্ফীতির হার বাড়লে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, অর্থাৎ একই পরিমাণ টাকা দিয়ে আগের চেয়ে কম জিনিস কেনা যায়। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সীমিত আয়ের মানুষ।
আন্দোলনের ধাক্কায় গতবছর জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছিল। এরপর তা কমতে কমতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ৩৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।
কিন্তু এরপর দুই মাস ধরে ফের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির সূচক। খাদ্যপণ্যের সঙ্গে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে, যা সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
দেশে নিম্ন বা সীমিত আয়ের মানুষের সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল মোট জনসংখ্যার ১৮.৭ শতাংশ বা প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ। আর ২০২২-২০২৫ সময়কালে তা বেড়ে প্রায় ২৭-২৮ শতাংশ। অর্থাৎ আনুমানিক ৪ কোটি থেকে ৪.৫ কোটি বা তার বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক পূর্ভাবাস ছিল, ২০২৩-২০২৫-এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা ৩ থেকে ৩.৬ কোটি এবং অতিদরিদ্রের সংখ্যা ৯-১০ শতাংশ বা প্রায় ১.৫ কোটিতে দাঁড়াবে।
বিবিএসের সবশেষ তথ্য বলছে, খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি নভেম্বর মাসের ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ডিসেম্বরে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে।
নভেম্বর মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ তা ডিসেম্বরে বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়েছে।
ডিসেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে যা নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।
আর শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নভেম্বর মাসের ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের উচ্চ হার ধরে রেখেছে। তবে অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান আবার বাড়তে শুরু করেছে।
মূল্যস্ফীতি বাড়ায় খেটে খাওয়া মানুষের পকেটের ওপর চাপ বাড়লেও মজুরি হারের সূচকে কোনো সুখবর নেই। ফলে আরও মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নামতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার যেখানে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সেখানে ডিসেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।
এর অর্থ হল, জীবযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ছে, মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না।