প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২২:১৩ পিএম
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ বেড়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয়েছে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৭৫ শতাংশ। আর ঋণের অর্থছাড় বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ হয়েছে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণের আসল পরিশোধ করা হয়েছে ১০২ কোটি ৪১ লাখ ডলার। আর সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে সুদ ও আসল পরিশোধ করা হয়েছিল ১৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৮৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আর সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৫৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার।
ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বেড়েছে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের অর্থছাড়ও। চলতি অর্থবছরের চার মাসে অর্থছাড় হয়েছে ১৬৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ১৫৫ কোটি ৩২ লাখ ডলার আর ১১ কোটি ১৭ লাখ ডলার পাওয়া গেছে অনুদান হিসেবে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের অর্থছাড় হয়েছিল ১২০ কোটি ২০ লাখ ডলার। এরমধ্যে ঋণ পাওয়া গিয়েছিল ১০১ কোটি ১৩ লাখ ডলার এবং অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ১৯ কোটি ৬ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ১২০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। এরমধ্যে ঋণ প্রতিশ্রুতি ছিল ১১১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার আর অনুদান ৮ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরে ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ২৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যার পুরোটাই ছিল অনুদান। এই সময়ের কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।
মূলত গত অর্থবছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তনের কারণে বৈদেশিক ঋণের সব ধরনের কর্মকাণ্ড একেবারে ধীরগতিতে চলে আসে। এ কারণে বিভিন্ন ঋণের আলোচনা প্রক্রিয়াও প্রায় থেমে ছিল।