আইএমইডির প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৪ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশে। আর অর্থবছরের চার মাসে অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। টাকার অঙ্কে খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত এডিপির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে অক্টোবর প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১৯ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে ১০ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ও ঋণের প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। এ ছাড়াও ১ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে।
এ আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিল ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তখন বাস্তবায়নের হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এডিপি বাস্তবায়নের হার কিছুটা কমেছে। তবে টাকা খরচ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একক মাস হিসেবে অক্টোবর মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে সাত হাজার ৭২০ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নের ব্যয় হয়েছে ৪০৯ কোটি টাকা।
তার আগের বছর ২০২৪-২৫ সালে ৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫ হাজার ১৬৫ কোটি। ২ হাজার ৮৫০ কোটি ৫৩ টাকা প্রকল্প সাহায্য এবং নিজস্ব অর্থায়ন ৭৪৬ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়, বিগত বছরে এই সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংসদ-বিষয়ক সচিবালয় মন্ত্রণালয় এক পয়সার কাজও করেনি। দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৪টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর সংসদ সচিবালয়ের ১টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০ লাখ টাকা।
চার মাসের নামেমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে প্রতিরক্ষা, স্বরষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।
অপরদিকে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ ব্যয় করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এর পরের স্থানে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ৩৬ শতাংশ। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন, এই বিভাগটি ব্যয় করেছে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ব্যয় করেছে ২১ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ২২ দশমিক ০৪ শতাংশ।