প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫১ পিএম
ধীরে ধীরে কমছে মূল্যস্ফীতি। কলমানি বা রেপো-উভয়ই ভালো দিকে যাচ্ছে। তাই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৩ নভেম্বর মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১০ম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। যা এক বছর আগেও ছিল ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা এক বছর আগেও ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্য বহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতি একই সময়ের ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, চলতি বছরের অক্টোবরে গড় কল মানি রেট এসে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশে। যা ২০২৪ সালের জুনে ছিল ১০ দশমিক ০১ শতাংশ। একইভাবে, আন্ত:ব্যাংক গড় রেপো রেট অক্টোবরে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যা চলতি বছরের জুনেও ছিল ১০ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ সময়ে আন্ত:ব্যাংক কল মানি রেট এবং আন্ত:ব্যাংক রেপো নীতিগত রেপো হারের চেয়ে কম।
এছাড়া টি-বিল এবং বন্ডের বিনিয়োগ-চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সুদের হার কমেছে। রপ্তানিতে মাঝারিমানের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমদানিতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, যা আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বেড়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ঋণের চাহিদা কমেছে।
তবে কমিটি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু অঞ্চলে আমন ধানের ক্ষতির ফলে তাৎক্ষণিক মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির পূর্বাভাস দিয়েছে। তাছাড়া, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রমজানের সময়কাল এবং নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের সম্ভাব্য ঘোষণার ফলে মুল্যস্ফীতি প্রতিকূলতা দেখা দিতে পারে। যার সবকটিই সাধারণত চাহিদা এবং ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি করে।
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখলে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এমপিসির সদস্য সচিব এবং মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের উপস্থিত ছিলেন।