× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শীতের আমেজ শুরু হলেও কমেনি সবজির দাম

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:৪০ পিএম

শীতের আমেজ শুরু হলেও কমেনি সবজির দাম

শীতের আমেজ শুরু হলেও সবজির দাম কমার কোনও লক্ষণ নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে দাম ক্রমেই বাড়ছে। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা উভয়েরই অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে অস্থিরতার কারণে সবজির দাম স্বাভাবিক হতে পারছে না। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বেগুনের দামও প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাধা কপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, অথচ গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকায়। বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও দামে কোনও কমতি দেখা যায়নি। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতার সংখ্যা কম হলেও সবজির পাইকারি দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও প্রভাব পড়ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নরায়ণগঞ্জের করইতলা তালতলা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল মান্নান জানান, পাঁচ-ছয়টা মোটা শসা ২০ টাকায় দিচ্ছি, কিন্তু দুই দিন আগেও আটটা শসা ২০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পাইকারি দামে সবকিছুরই বাড়তি চাপ।

খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ আলামীন বলেন, এই সপ্তাহে শিম আনছি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা। দাম বেশি বলে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি।

বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, উস্তা ৯০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পেয়াজের পাতা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি দরে। সবজির পাশাপাশি প্রোটিন জাতীয় পণ্যের দামও ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কক মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০ টাকা, এবং ডিম ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিতল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ইলিশের দামও আকাশছোঁয়া- এক কেজির কম ওজনের ইলিশ ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকা, আর এক কেজির বেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকায়। এ ছাড়া নদীর পাঙ্গাস ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা, চিংড়ি ৪০০ থেকে ১,০০০ টাকা, দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পাবদা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং কাচকি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা আলি আহসান বলেন, মাছ কম থাকলে দাম বেড়ে যায়। এখন বেশিরভাগ মাছ আসে মেঘনা নদী থেকে। সরবরাহ কম বলেই দাম বাড়ছে। তিনি জানান, শীতের সময় নদীতে মাছ ধরার পরিমাণ কমে যায়, ফলে বাজারে মাছের সরবরাহও সীমিত থাকে।

সবজির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। অনলাইন বাজার তথ্য অনুযায়ী, মিনিকেট চালের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ১৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১২২ থেকে ১২৫ টাকা, আমদানিকৃত ডাল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। বোতলজাত তেল এক লিটারে ১৩৫ টাকা, খোলা তেল ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শীত মৌসুমের শুরুতে সবজির উৎপাদন স্থিতিশীল হলেও পরিবহন ব্যয় ও পাইকারি দামে ওঠানামার কারণে খুচরা বাজারে দাম কমছে না। এ ছাড়া, চাহিদা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় দামের ভারসাম্য রাখতে পারছেন না।

সরকারি সংস্থা ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলেও তার প্রভাব বাজারে তেমন দৃশ্যমান নয়। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, সরকারের উচিত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং কৃষক থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থা করা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা