চট্টগ্রাম অফিস ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০০ পিএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০১ পিএম
ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫ থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায়। একই পেঁয়াজ গতকাল মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯৫ থেকে সর্বোচ্চ ১১০ টাকায়। এ হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা।
আড়তদাররা বলছেন,
মৌসুমের শেষ সময়ে এখন বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে, তাই দাম বাড়ছে। বাজারে নতুন পেঁয়াজ
না আসা পর্যন্ত কমবে না। তবে আমদানির অনুমতি দিলে এখনও দাম কমতে পারে বলে জানান তারা।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক
মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে দেশি পেঁয়াজের
সরবরাহ কমছে, এটাই বাড়ার কারণ। অন্যদিকে পেঁয়াজ আমদানিও বন্ধ। তাই সরবরাহ কমে যাওয়ায়
এখন বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েছে, তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত আর কমবে না।
আর সরকার যদি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে দাম কমতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে
তিনি বলেন, দেশি তুলনায় আমদানি করা পেঁয়াজের দাম অবশ্যই কম হবে। ভারত থেকে পণ্যটি আমদানি
করলে এখন কেজিতে খরচ পড়বে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। অন্য কোনো দেশ থেকে আমদানি করলেও সেগুলোও
৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে থাকবে।
এর আগে আগস্ট
মাসের শেষ দিকে একই কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে তখন
বাজারে কেজিতে ২০-২৫ টাকা বাড়ে। সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাতে তখন বাজারে দাম বাড়তে থাকলে
সরকার গত ১৭ আগস্ট পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। আমদানির অনুমতি দেওয়ার এক দিন পরই স্বাভাবিক
পর্যায়ে চলে আসে পেঁয়াজের দাম। স্বাভাবিক হওয়ার পর সরকার আবার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি
বন্ধ করে দেয়। এরপর গত দুই মাসের বেশি সময় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল ছিল। সর্বশেষ গত
সপ্তাহেও বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৭৫ থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায়। চলতি
সপ্তাহে সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে সর্বোচ্চ ১১০ টাকায়।
আড়তদাররা বলছেন,
প্রতি বছরই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম একটু ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এবার
কৃষক পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজের মজুদ বেশি থাকায় বাজারে এখনও সরবরাহ ঠিক আছে। তবে জানুয়ারিতে
নতুন পেঁয়াজ আসা পর্যন্ত দেশি পণ্য দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে কি না, সেটি আমরা
নিশ্চিত নই।
ভারত থেকে
আমদানি বন্ধ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে
খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের
দাম লাফিয়ে ১০০-১০৫ টাকায় পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ ক্রেতারা। জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজারদর থেকে দ্রুত
মূল্যবৃদ্ধির এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত সোমবার পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ছিল ৭০ থেকে
৭৫ টাকার মধ্যে, যা গতকাল মঙ্গলবার এক দিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা
জানান, পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো স্থানীয় বাজারে সরবরাহের
তীব্র ঘাটতি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব পেঁয়াজের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় জেলার বাজারে
এখন বাইরের পেঁয়াজের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে। বর্তমানে পেঁয়াজ আসছে মূলত
পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহীর বানেশ্বর ও তাহেরপুর এলাকা থেকে। কিন্তু ওইসব অঞ্চলেও পেঁয়াজের
দাম বাড়তি। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের প্রতি মণের দাম এখন ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকার
মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
ব্যবসায়ীরা জানান,
যেহেতু বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা পরিবহন ও অন্যান্য খরচ
যোগ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জের
সানাউল্লাহ নামে এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দাম রাতারাতি এত বেড়ে গেল, বাজারে এসে অবাক
হচ্ছি। ১০০ টাকা দিয়ে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হবে, ভাবতেই পারছি না। অন্যান্য পণ্যের
পাশাপাশি এখন পেঁয়াজও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নভেম্বর জুড়ে
দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক্সপার্ট
কিউরার মোহা. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মজুদকারী ও পাইকারদের মধ্যে যাদের কাছে পেঁয়াজ
রয়েছে, তারাও সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়েছেন। নভেম্বর মাসজুড়ে পেঁয়াজের দাম
বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দাম স্থিতিশীল করতে হলে দ্রুত আমদানির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ
বাড়াতে হবে।’
এদিকে ১ মাস ২৬
দিন ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উদ্ভিদ
সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, সবশেষ এই স্থলবন্দর দিয়ে চলতি
বছরের সেপ্টেম্বরে ২৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।