প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০০ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন ও সংযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নেপালি রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ ও নেপালের ট্রাভেল ট্রেড শিল্পের সংযোগ স্থাপন শীর্ষক বিটুবি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে একথা বলেন তিনি।
ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, গত বছর প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক নেপাল ভ্রমণ করেছেন। আমরা আশা করছি, চলতি বছরে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমি বিশ্বাস করি, নেপাল ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। হিমালয় ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি করাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যা দুদেশের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে। একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি চাই, ভবিষ্যতেও এমন আরও আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে।
নেপালি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মানুষের মধ্যে অসাধারণ সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে ভ্রমণ ও পর্যটনকে ঘিরে। আমি নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশগ্রহণ করার জন্য। একই সঙ্গে এই বিটুবি আয়োজনের সঙ্গে নেপাল দূতাবাসকে যুক্ত করার জন্য আয়োজকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, বরং দুদেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা। নেপাল পর্বতমালা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ। নেপালের মানুষ বিশ্বাস করে, ‘অতিথি দেব ভব’ অর্থাৎ অতিথি আমাদের কাছে দেবতার মতো।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ-২০২৫)। চলবে শনিবার (১ নভেম্বর) পর্যন্ত। রাজধানীর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে (বিসিএফসিসি) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনদিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- দেশের পর্যটন শিল্পের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের অফিসিয়েটিং ডিরেক্টর, (জনসংযোগ ও প্রচার) সুনীল শর্মাসহ অন্যান্য অতিথিরা।
এবারের পর্যটন মেলায় দেশি-বিদেশি ১২০টির বেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান প্রায় ২২০টি স্টল ও ২০টি প্যাভিলিয়নে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। মেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে- জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পর্যটন–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এবারের মেলায় পাকিস্তান, নেপাল ও ভূটানের জাতীয় পর্যটন সংস্থা ও ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অংশগ্রহণ করছে। এছাড়াও পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, তুরস্ক ও স্বাগতিক বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্টরা অংশগ্রহণ করছে।
মেলা চলাকালে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভিজিটরদের জন্য তাদের সেবা ও পণ্যের ওপর বিশেষ মূল্যছাড় দিচ্ছে। দেশি ও বিদেশি গন্তব্যে এয়ার টিকিট, তারকা হোটেলগুলোয় রুম বুকিং, ভ্রমণ প্যাকেজ ইত্যাদি এই মূল্যছাড়ে অন্তর্ভুক্ত। মেলায় সাইড লাইন ইভেন্ট হিসেবে থাকবে বিটুবি সেশন, সেমিনার, অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান ও কান্ট্রি প্রেজেন্টেশন। এছাড়া মেলায় আগত দর্শনাথীদের জন্য প্রতিদিন সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং দেশের পর্যটন গন্তব্যের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।
এবার মেলায় প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে জনপ্রতি ৫০ টাকা। তবে ছাত্র-ছাত্রী, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মেলায় প্রবেশ উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রতিদিন সকাল ১০টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনাথীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।