প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৫৩ পিএম
প্রায় দুই দশক পর আবারও বসেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জেইসি) বৈঠক। ২০০৫ সালের পর এই দুই দেশের মধ্যে আর কোনো উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক বৈঠক হয়নি। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নবম জেইসি বৈঠকে উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, বিমান ও সমুদ্র যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, এই কমিশনের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং জনগণের কল্যাণ ও দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সভা কেবল সম্পর্ক উন্নয়ন নয়— এটি জনগণের কল্যাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, ট্রেড, কমার্স, আইটি, এগ্রিকালচার ও ফুড— প্রতিটি খাতেই এমন কিছু বিষয় আলোচনা হয়েছে যা সরাসরি দুই দেশের মানুষের উপকারে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু দ্বিপক্ষীয় নয়, আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকেও যেতে চাই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে, তাহলে পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বৈঠকে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব খাতে যৌথ গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করে। বিমান ও সমুদ্র যোগাযোগ জোরদার এবং বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারেরও কম, যা দুই দেশের সম্ভাবনার তুলনায় খুবই সামান্য। আমাদের জনগোষ্ঠী বিশাল এবং একে অপরকে অর্থনৈতিকভাবে পরিপূরক করতে পারে। তাই আমরা চাই দুই দেশের ট্রেড ভলিউম আরও বাড়ুক।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল ও অন্যান্য শিল্পপণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ও জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলে দেবে। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগও আরও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকের শেষে উভয় দেশ পরস্পরের সহযোগিতা ও আতিথেয়তার প্রশংসা করে। পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল জানায়, দীর্ঘ বিরতির পর এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তারা আশাবাদী, এই ইতিবাচক ধারা ধরে রেখে বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বলা হয়, জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের এই বৈঠক কেবল দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গেও যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, প্রায় দুই যুগ পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের উন্নয়নই হবে এই বৈঠকের মূল অর্জন।